‍'জঙ্গি জসিম নয়, নাম তার ইমতিয়াজ'

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৭, ২০:২৩
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলাধীন কুটুম্বপুর বাস স্টেশনে হাইওয়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় আটক দুই জঙ্গির নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ঘটনার পর আটক জসিম তার নাম জহিরুল ইসলাম জসিম উল্লেখ করলেও প্রকৃত পক্ষের তার নাম আহম্মেদ আসওয়াদ ইমতিয়াজ। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ নয়, তার সেনা বাহিনীর অবসর. প্রাপ্ত মেজর কবির আহম্মেদ তালুকদার। জঙ্গি ইমতিয়াজ রাজধানী উত্তরা এলাকার সানডিন স্কুল এন্ড কলেজ নামে ইংরেজি মাধ্যমের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ লেভেলে লেখাপড়া করছিল সে। 
গত এক বছর ধরে জঙ্গি আহম্মেদ আসওয়াদ ইমতিয়াজ (১৯) নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
 
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মামলা তদন্তে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছেন বলে জানান। 
 
এছাড়া পরিবারের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, প্রায় এক বছর যাবৎ নিখোঁজ রয়েছে ইমতিয়াজ। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তার পরিবার জানেন না বলে জানান। তবে তদন্ত চলছে।
 
এদিকে, প্রায় এক বছর পূর্ব হইতে জঙ্গি ইমতিয়াজ পরিবার থেকে নিখোঁজ হওয়ায় সঙ্গে রাজধানীর গুলশান হলিআর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার অনেক মিল পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে হলিআর্টিজানে হামলার সাথেও জঙ্গি ইমতিয়াজ ও হাসান এর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 
 
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি ইমতিয়াজ এখনও চিকিৎসাধীন। হলিআর্টিজানের বিষয়ে এখনও সুষ্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে অপর জঙ্গি বান্দারবানের নাইখ্যাংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান এর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তেমন কোন তথ্য এখনও পায়নি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তবে জঙ্গি মাহমুদুল হাসান বোমাসহ বিভিন্ন গোলাবারুদ তৈরি ও বহনে ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
টাঙ্গাইল জেলার কালীহাতি উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র শাফী খান জানান, আমার জানামতে এলাকা পৌর এলাকায় কবির আহমেদ নামে কোন মেজর নেই। আমার ধারণা জঙ্গি ইমতিয়াজ এখনও তার পরিচয় গোপন করছে। 
 
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৭ মার্চ) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত অধিক গতি সম্পন্ন গাড়ি চিহ্নিত করণে চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় অভিযান চলছিল। ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে ওই অভিযান চলাকালিন সকাল সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের অধিক গতি চিহ্নিত হয়। পুলিশ গাড়িটি ধাওয়া করে আটক করার পর বাস থেকে নেমে আসা যাত্রীবেশী দুই জেএমবি সদস্য আল্লাহু আকবার ধ্বনী দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে। ভাগ্যবসত: ওই বোমা বিস্ফোরিত না হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া শুরু করলে তারা বোমা ছোড়া অবস্থায় দৌঁড়ে খাদঘর গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলিছুড়ে। প্রায় ২০ মিনিট প্রচেষ্টায় ২৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিমকে এবং হাসান নামে আরও এক জেএমবি সদস্যকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বোমা ও ১টি ধারালো ছুড়ি উদ্ধার করা হয়।