দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে বর্ষার আমেজ বিরাজ করছে। শীতের শেষে ও গরমের শুরুতে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছে জনজীবনে। গত রবিবার মৌসুমের প্রথম ঝড়ের পর থেকে এখানকার জেলাগুলোতে কম বেশি বর্ষণ চলছে। গত রাত থেকে বরিশাল ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্যের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এতে করে সবচে বেশি লাভবান হবেন বোরো চাষিরা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় বরিশালে ১১ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৩১ মিলিমিটার, ভোলায় ১৪ ও কুয়াকাটার কলাপাড়ায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে কিছুটা গুমোট ও মেঘলা আবহাওয়া দুপুরের পর থেকে হালকা থেকে মাঝারি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এই অঞ্চলে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক প্রনব কুমার রায় জানান, বরিশালে শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা থেকে ২২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়া বৃষ্টিপাতা বাড়ছে। মূলত গত রাত ১০টার পর থেকে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে।
প্রনব কুমার রায় বলেন, বরিশাল নদী-বন্দরের জন্য ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও রাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। বিশেষ করে উপকুলীয় এলাকাতে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই আকাশ কালো মেঘে ডাকা রয়েছে। সেই সাথে চলছে হাল্কা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। পথচারীদের ছাতা মাথায় দিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে দেখা যায়। বর্ষণমুখর আবহাওয়ার কারণে সড়কে সীমিত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে খরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসলের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান, মুগ ডাল, গম, ভুট্রা, তরমুজ, সূর্জমূখী, মরিচ ইত্যাদির জন্য বৃষ্টি খুবই উপকারি। তবে বৃষ্টিপাত অতিরিক্ত হলে কিছু ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ব্যপারে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ওমর আলী শেখ শনিবার বাসস’কে জানান, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের ৬টি প্রায় জেলায় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এই পুরোটা জমিই বৃষ্টির মাধ্যমে উপকৃত হবে। এছাড়া সদ্য ফুল থেকে আমের মুকুলের জন্যও বৃষ্টি ভালো। পাশাপাশি রবি মৌসুমের অন্যন্য ফসলের জন্যও আর্র্শিবাদ হবে এই বৃষ্টি।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে যে সকল ফসলে সেচ দেয়া হয় না সে সব ফসল বেশি উপকৃত হবে। তবে যদি অধিক পরিমানে বৃষ্টি হয় তবে যেসব ফসলে ফুল রয়েছে তা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর যদি বৃষ্টি শেষে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয় সে ক্ষেত্রে সব ঠিক থাকবে। বাসস।
