ইলিশ উত্পাদন বাড়ছে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৭, ০১:৩৬

প্রতি বছরই বাড়ছে ইলিশের উত্পাদন। মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে ইলিশের উত্পাদন বেড়েছে ২ লাখ টনেরও বেশি। ২০০২-০৩ অর্থবছরে যেখানে ১ লাখ ৯১ হাজার টন ইলিশ উত্পাদিত হয় সেখানে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন ইলিশ উত্পাদিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে উত্পাদন বাড়ছে। ইলিশ রক্ষায় কারেন্ট জালসহ অন্যান্য উপকরণ নির্মূলে ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে সারাদেশে এসব জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে। এতে ইলিশ উত্পাদনে বড় ধরনের সাফল্য আসবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ‘মত্স্য ভবনে’ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ  উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাটকা ইলিশ ধরব না, দেশের ক্ষতি করব না’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ১১-১৭ মার্চ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, ইলিশ মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে রোল মডেল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ইলিশ। কারণ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ আসে ঝকঝকে রূপালী ইলিশ থেকে। বাংলাদেশের পরই ইলিশ উত্পাদনে রয়েছে যথাক্রমে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। ইলিশ উত্পাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া বাকি ১০টি দেশেই ইলিশ উত্পাদন কমেছে। একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশ উত্পাদন প্রতি বছর ৯ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্যমতে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও এ বছর ইলিশ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের আশার আলো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ শতাংশ উত্পাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ২০ শতাংশ, মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ৫ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ইলিশ উত্পাদন হতো ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন। আগামী অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ উত্পাদন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সাল থেকে ইলিশ উত্পাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেছেন, ইলিশের উত্পাদন কমে যাওয়ার জন্য জাটকা নিধনই দায়ি। পরে জাটকা নিধন বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলে ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ইলিশ উত্পাদন বৃদ্ধিতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে গতকাল শনিবার মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৯৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময় এক মাস বাড়িয়ে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। জাটকার দৈর্ঘ্য ২৩ সেন্টিমিটার হতে বৃদ্ধি করে ২৫ সেন্টিমিটার করা হয়েছে। কেবল জাটকা রক্ষা নয়, মা ইলিশ সুরক্ষা আইনটি সঠিকভাবে সংশোধনের ফলে নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছে। তাই মেঘনা হতে জাটকা আজ পদ্মা, যমুনা, বহ্মপুত্র, সুরমায় বিস্তার লাভ করেছে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট মত্স্য উত্পাদনের প্রায় ১১ ভাগই ইলিশ। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় এক ভাগ। উপকূলীয় মত্সজীবী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত। এছাড়া ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, রফতানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তিনি বলেন, সরকার জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের দুর্দিনের কথা ভেবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬১৫টি জেলে পরিবারকে তাদের চাহিদানুযায়ী নানা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই লাখ ৩৬ হাজার ১৭৬ জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে ৩৭ হাজার ৭৮৮ টন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/নূহু