কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদকে ঘিরে পর্যটন শিল্প

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৭, ১৩:৩৮
টেরাকোটা অলংকরণের বৈচিত্র্য ইন্দো-পারস্য-ভাস্কর কৌশল ও শিল্প মহিমায় বিস্ময় জাগানিয়া কান্তজিউ মন্দিরকে ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়ে তুলতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এসব স্থাপনা এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
 
দিনাজপুর জেলা শহর থেকে মন্দিরে যাবার জন্য ঢেপা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে ব্রিজ। ওই ব্রিজটি না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মন্দিরে যেতে হতো। পর্যটকরা এসে সেখানে অবস্থান করার কোনো পরিবেশ ছিল না। যে কারণে মন্দিরের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে পর্যটন মোটেলের রেস্ট হাউজ। দর্শনার্থীদের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানাতে নির্মাণ করা হয়েছে মিউজিয়াম। কেনা-কাটার সুবিধার্থে পাশের মার্কেটের আশপাশের রাস্তা উন্নয়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী শিব মন্দির ও রাজবেদী সংস্কার করে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।IMG0
 
এলাকাবাসীর দাবি, এসব স্থাপনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এসে উদ্বোধন করে দেখে যাবেন।
 
দিনাজপুর জেলা সদর হতে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর হতে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেপা নদীর তীরে প্রাচীণ টেরাকোটার অনন্য নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির অবস্থিত। কালিয়াকান্ত জিউ অর্থাৎ শ্রী-কৃষ্ণের বিগ্রহ অধিষ্ঠানের জন্য এই মন্দির নির্মিত। এই জন্য এর নাম কান্তজিউ মন্দির। মন্দিরটি যে স্থানে স্থাপিত তার নাম কান্তনগর। কান্তনগর সম্পর্কে পৌরাণিক বহু গল্প ও উপাখ্যান প্রচলিত রয়েছে।
 
এই মন্দিরের পাশের পাড়ায় মাত্র সোয়া কিলোমিটার দূরে টেরাকোটার তৈরি আরেক নিদর্শন রয়েছে যেটি নয়াবাদ মসজিদ। পর্যটকরা সেখানে গেলে টেরাকোটায় নির্মিত মসজিদটি না দেখে ফেরে না। তাই সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল ওই মসজিদটিরও সংস্কার করেছেন। মসজিদটি স্থাপনের পর এটিই প্রথম সংস্কার। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এজন্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।IMG1
 
কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, ‘এসব স্থাপনা চালু হলে এলাকার গুরুত্ব এখানে বহুগুণ বেড়ে যাবে। বৃহত্তর দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গের জন্য এই সংস্কার কাজ অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিবে বলে আমার বিশ্বাস।’
 
কাহারোল নির্বাহী অফিসার আসলাম মোল্লা জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় কান্তজিউ মন্দির, নয়াবাদ মসজিদ সংস্কার ও এর আশপাশের স্থাপনা নির্মাণ নিঃসন্দেহে পর্যটন নগরীকে সমৃদ্ধ করেছে। এটি এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।