চরফ্যাশনের নীলকমল ইউনিয়নে জহর লাল বেপারী (৫০) নামে এক আলু চাষী ফসলের ক্ষতি দেখে হতাশায় জ্ঞান হারিয়ে মারা যান। শনিবার বিকেলে ক্ষেতে আলু তুলতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। জহর লাল ঐ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মৃত নবকুমার ব্যাপারীর ছেলে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন জানান, ৭নং ওয়ার্ডের কৃষক জহর লাল ব্যাপারী এবছর ৩একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। বিকেলের দিকে জমিতে আলু তুলতে গিয়ে দেখেন সকল আলু পানিতে পচে গেছে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে ৫ দিনের বর্ষায় চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলী জমিতে পানি জমে গেছে। অনেক কৃষক ক্ষেতে সেচ পাম্প বসিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা চালালেও কিছুক্ষণ পর পর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে কৃষকের সে চেষ্টা বিফলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা তাদের সৃজিত রবিশষ্য এবং মৌসুমী ফল তরমুজের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- মুগ, বাদাম, মরিচ, তরমুজ, গোল আলু, মিষ্টি আলু, রসুন, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন প্রকার শষ্য ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করে ধৈর্য্যের সাথে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস জানান, এছর চরফ্যাশন উপজেলার মোট ৬০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে রবি শস্য চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মুগ-১২ হাজার৭৯০, মরিচ ১৪হাজার ২৫০, ফেলান ৭ হাজার ৪৫০, বাদাম ১৩ হাজার ৫৪০,আলু ৩ হাজার ৮২৫, মিষ্টি আলু ৬শ’৮০, তরমুজ ৮হাজার ৫৪৫ হেক্টর।
