সিঙ্গাইরে আব্বাস হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিন দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৭, ২৩:৪৫

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় আব্বাস আলী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আছর আলীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার জেলার বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক আবদুল্লা আল-ইউসুফ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার ও ভূক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার মেদুলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আব্বাস আলী (৫২)। ওই রাতে তার স্ত্রী আইরিন আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দুইটার দিকে বারান্দার কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। ভেতরে ঢুকে তাঁরা রশি দিয়ে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় আব্বাসের লাশ দেখতে পান।

পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশ আব্বাসের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় দিন আব্বাসের ভাতিজা জহিরুল ইসলাম কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিন সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আব্বাসের স্ত্রী আইরিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরের (৬ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জের বিচারিক হাকিমের আদালতে আইরিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আইরিন বলেন, তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশি আছর আলীর (২৮) সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্যকলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে ওই যুবক ও আব্বাসের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ কারণে আব্বাসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আছর আলী।

ঘটনার রাতে বারান্দার কক্ষে আছর আলী ও তাঁর বন্ধু কামরুল ইসলামসহ আরও তিনজন আব্বাসকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর ডাকাতির নাটক সাজানো হয়। এ ঘটনায় কামরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কামরুল জেলা কারাগারে রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকতা ও সিঙ্গাইর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি আছর আলীকে গ্রেফতার করা হয়। গত রবিবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তাঁকে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল-ইউসুফ গতকাল শুনানির দিন ধার্য করেন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল আসামি আছর আলীকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি  বলেন, আব্বাসের স্ত্রী অজ্ঞাত অন্য তিন আসামির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। রিমান্ডে আছর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের আরও তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা যাবে।

ইত্তেফাক/নূহু