জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কিছুই করা হবে না

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৭, ০০:২৬

আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। বরং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইতিপূর্বে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি করে গঙ্গার পানির হিস্যা আদায় এবং সীমান্ত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘকালের অমীমাংসিত ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বাংলাদেশের অনুকূলে যে রায় দেওয়া হয়, ভারত তার বিরোধিতা করেনি। তারা সেই রায় মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে আমাদের সকল অমীমাংসিত সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। এমনকি পর্যায়ক্রমে তিস্তা সমস্যারও সমাধান হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে ইত্তেফাককে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উত্স দেশের জনগণ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জীবদ্দশায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো কিছুই করা হবে না।

প্রতিবেশী ভারতকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও অকৃত্রিম বন্ধু উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে সত্ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কোনো বৈরিতা-সন্দেহ জিইয়ে রাখা ঠিক নয়। কারণ, অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই দলটি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে। ক্ষমতায় থাকলে তারা ভারত প্রীতি দেখায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকলে তাদের মধ্যে ভারত ভীতি কাজ করে। এটা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়।

দেশের রাজনীতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোটেই দুর্বল মনে করি না। তাদের তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন এলেই বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়। আর এ কারণেই আমরা আওয়ামী লীগকে কলহ-কোন্দল মুক্ত করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। দলকে শক্তিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা হবে। আর এ জন্য সারাদেশে দলের প্রতিনিধি সম্মেলন করা হচ্ছে। সকল পর্যায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হবে।

তিনি বলেন, এখন থেকে দলের জেলা কমিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত কোনো কমিটি বাতিল বা দল থেকে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবে না। প্রয়োজনে জেলা কমিটি এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবে। কেন্দ্রই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের ঐক্য অটুট থাকবে। জোটে শরিক দলের সংখ্যাও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ক্রমাগত অভিযানে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে দৃশতঃ নিষ্ক্রিয় মনে হলেও তলে তলে তারা তত্পর। তাদের ডালপালা সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক ‘বিষবৃক্ষ’ সমূলে উত্পাটন করতে চাই। এজন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-বৃটেনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশেও আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি এই সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হবে। মেয়াদ পূর্তির তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই তিন মাস প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার দৈনন্দিন (রুটিন) কাজ করবে। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসন, সেনাবাহিনী সবই থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিবে। কাজেই সরকারের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে এমন নজির নেই। অথচ বিএনপির শাসনামলে মাগুরা উপ-নির্বাচনসহ জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার কথা এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। বর্তমান সরকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করলে বিএনপি প্রার্থীরা পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জয়লাভ করতে পারত না। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির নেতিবাচক বক্তব্য খণ্ডন করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিও মানেনি। সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন। এই ইসি তো বিএনপি আমলে গঠিত আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন নয়। নতুন নির্বাচন কমিশনে বিএনপির সুপারিশকৃত একজন কমিশনারকে রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু