বর্বরতা: ধর্ষণে ১২ বছরেই মা হল স্কুলছাত্রী, প্রতিবেশীদের হুমকি

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৭, ১০:৫৯
 
গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য পরিবারের প্রাণপণ চেষ্টা, অন্য দিকে প্রতিবেশীর রক্তচক্ষু। সেই টানাহ্যাঁচড়ার মাঝে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কুমারী মা ও তার সদ্যোজাত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ভারতের একটি রাজ্যে ঘটনাটি ঘটেছে।
 
অভিযোগ, ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীটি। নাবালিকা মায়ের আশঙ্কা, বাড়ি ফিরলে লাঞ্ছনা, মারধর, অত্যাচার হবে তার ওপর। ঘটনাচক্রে, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে সে, কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে। নাম-বয়স সব গোপন করে তাকে ভর্তি করানো হয়েছে। জুড়ে দেওয়া হয়েছে স্বামীর ভুয়া নাম।
 
আশঙ্কা, নিকটবর্তী গ্রামে ফিরলেই মারধর করে বাড়িছাড়া করার ভয় দেখানো চলছে হাসপাতালের বিছানায়। বালিকার দাদু বলেন, গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর এসে হাসপাতালে ঢুকে নাতনিকে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা আতঙ্কিত।
 
হাসপাতালের বেডে বসে ওই ছাত্রী বলে, আমার মরে যাওয়াই ভাল। খুব ভয় করছে। একদিন আমি রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলাম। তখন অন্ধকারে আমার সাইকেল আটকায় দু’জন। চিনতে পারিনি। তারা আমার উপর অত্যাচার করেছিল। এখন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে কী করব? তারপরই বিছানায় মুখ গোঁজে। কাঁদতে শুরু করে।
 
গ্রামের একদল ‘প্রভাবশালী’ রবিবার দুপুরে হাসপাতালে এসেছিল। ওই দলেরই কেউ কেউ ছাত্রীর পরিবারকে ভয় দেখায় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের একজন বলেন, ‘‘কেন মেয়েটি মা হল, তার জবাব চাই। আমরা ওদের ছাড়ব না। গ্রামের সকলে ক্ষেপে আছে। ওর দাদুই অপকর্ম করেছে। ওকে অপরাধ স্বীকার করতে হবে।’’ অন্যেরাও প্রায় একই অভিযোগ তোলেন। কিন্তু সব অভিযোগই অস্বীকার করেন ছাত্রীর দাদু, বাবা-সহ পরিবারের অন্যেরা।
 
হাসপাতাল সূত্রের খবর, খাতায় ওই নাবালিকার বয়স লেখা রয়েছে ১৬ বছর। কেন এমন করেছেন? ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘‘মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। চক্ষুলজ্জায় তখন অভিযোগ করতে পারিনি। যদি হাসপাতাল ভর্তি না নেয়, সেই ভয়ে মেয়ের বয়স ভুল লিখেছি। স্বামীর ভুয়া পরিচয় দিয়েছি।