কুমিল্লাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আলু চাষের উপযোগী সময় ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে। আর মাঠ থেকে আলু উঠানো হয় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বর্ষণের কারণে এ জেলায় বিলম্বিত হয় আলু চাষ। চলতি সপ্তাহে টানা ৩-৪ দিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের সৃজিত আলু ক্ষেত। এতে জেলার কয়েক হাজার হেক্টর আলু ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়।
চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ১৫ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ করা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অন্তত জেলার ৮০ শতাংশ জমির আলু উত্তোলন করা হয়। আর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকে দফায় দফায় ভারী বর্ষণে আলু উত্তোলন নিয়ে বিপাকে পড়ে আলু চাষিরা। টানা ৩-৪ দিন জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার, বুড়িচং, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলার আলু ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়।
জেলার চান্দিনা উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের আলু চাষি আব্দুল মান্নান মেম্বার। মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রায় ২ একর জমির আলু উত্তোলন করলেও ৬ একর জমির আলু পানির নিচে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, মানুষের কাছ থেকে টাকা সুদে নিয়ে আলু চাষ করেছি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার দিন থেকে সেচ পাম্পে জমি থেকে পানি সেচ করছি তাও রক্ষা হলো না। শিলা ও বৃষ্টিতে আলু গাছ মরে গেছে, পচন ধরেছে মাটির নিচে থাকা আলুর। কাদা মাটি থেকে আলু উত্তোলন করা খুবই কষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকের অভাবে দ্রুত উত্তোলনও করতে পারছি না। কাদা মাটি মাখা আলু রোদে শুকাতে হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ভিজা আলু কিনতেও যাচ্ছে না। কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।
ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ জানান, আমরা বৃষ্টির আগে তোলা আলু কিনছি। বৃষ্টির পানিতে ভেজা আলু কোল্ড স্টোরেজে বেশি দিন রাখা যাবে না। তাই সংরক্ষণের জন্য পানির নিচে থাকা আলু আপাতত কিনছি না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুল্লাহ জানান, জেলার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির আলু উত্তোলন শেষ। বাকি প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। বৃষ্টির পর যে আলু উত্তোলন করা হবে সেগুলো সংরক্ষণ না করার পরামর্শ দেন এই বিজ্ঞ কৃষিবিদ।
ইত্তেফাক/নূহু
