মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদ (মাদারীপুর মধুমতি বিলরুট ক্যানেল) থেকে বালু উত্তোলনকারী বা বালু ব্যবসায়ীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালালেও সপ্তাহ না যেতেই আবার শুরু হয়ে যায় বালু উত্তোলন ও বিক্রি।
নদের পাড়বাসীরা অভিযোগ করে জানান, এলাকার প্রভাবশালী কতিপয় চিহ্নিত ব্যক্তি বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিতে পারে-এমন সব পক্ষকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা অব্যাহতভাবে রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টমটম (তেলের খালি ব্যারেল দিয়ে তৈরি) ড্রেজার ও কার্গো ড্রেজার দিয়ে উপজেলা উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কবিরাজপুর ইউনিয়নের আওলিয়াকান্দি, বিশ্বাম্বরদী, হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের হরিদাসদী, মহেন্দ্রদী, শাখারপাড়, কালিবাড়ী, বদরপাশা ইউনিয়নের শংকরদী, চরমস্তফাপুর, হোসেনপুর ইউনিয়নের তাতীকান্দা এলাকার নদ থেকে অবাধে উত্তোলন করছে। ফলে ঐসব এলাকায় ব্যাপক ভাঙনসহ নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাম্বরদী, মহেন্দ্রদী, হরিদাসদী, শাখারপাড়, কালিবাড়ী ও শংকরদী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিশ্বাম্বরদী গ্রামের আয়নাল হাওলাদার জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে পরিবর্তন হচ্ছে আবাসস্থলও। এমনকি বাপ-দাদার ভিটে হারিয়ে ঠিকানারও পরিবর্তন হচ্ছে। কখন কার জমি বা গাছপালা ও বাড়ি-ঘর নদের গর্ভে বিলীন হবে- বর্ষা মৌসুম আসার পূর্বেই এমন ভাবনায় নদের পাড়বাসীরা ভাঙনের শঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে। নদের পাড়ে বসবাসকারী একই গ্রামের নুরুল হকের স্ত্রী বৃদ্ধা তছিরন নেছা জানান, ঐ দেখেন (তখন অদূরে ড্রেজার দিয়ে বালি কাটছিল) ড্রেজার দিয়ে বালি কাটতাছে। গতবারে আমার বাড়ির গাছাপালা নদের ভাঙনে নদে গ্যাছে। এবারে হয়তো আমার বাড়ি টিকবে না। আওলিয়াকান্দি-বিশ্বাম্বরদী রাস্তা ভেঙে পড়ায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।
বৃদ্ধ এনামুল হক বলেন, আমরা বাধা দিলে ওরা শোনে না।
কবিরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও তহসিলদার ইকবাল হোসেন জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জানা মতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা আমি কাউকেই বালি কাটার অনুমতি দেইনি। অভিযোগ পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান খান বলেন, এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করা জরুরি।
ইত্তেফাক/নূহু
