শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে বার্ষিক বনভোজনে গিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গ্রামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র মোহন সরকার (৫০), তার স্ত্রী কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রীনা রানী সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, শুধু বেত ও লাঠি দিয়ে পিটিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি।অসহায় এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লাথিও মেরেছেন।অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৮-১০ জন ছাত্র-ছাত্রী। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের গ্রামাটিয়া এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ে এঘটনাটি ঘটেছে।
বুধবার বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।অমানবিক এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক ও তার লাঠিয়াল বাহিনী নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ও তার পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারগুলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ ছিল গ্রামাটিয়া এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র মোহন সরকার, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং শিক্ষকরা দুইটি বাস ভাড়া করে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বগুড়ার মহাস্থানগড় ও মিউজিয়াম দেখার জন্য যান। বগুড়া গিয়ে ফেরার পথে বাসে উঠতে ছাত্র-ছাত্রীদের একটু বিলম্ব হওয়ায় প্রধান শিক্ষক চন্দ্র মোহন সরকার, তার স্ত্রী রীনা রানী সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে বাসের মধ্যে থাকা বেত ও লাঠি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রহার ও লাথি মারে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রদের পিটাতে সহায়তা করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য হরিদাস সরকার, জয়নাল আবেদীন ও কয়েকজন শিক্ষক।কিছু ছাত্র মারপিটের এই দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে। প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মারপিটের কারণে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র সুদেব, ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মোমিন, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র নাজমুল, শওকত, ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী মারুফা, দীপা ও শিল্পীসহ ৮-১০ জন আহত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চেয়েও তারা রেহায় পায়নি।
এদিকে বনভোজন শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনা অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পরিবারের কাছে জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।গত কয়েক দিন ধরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক চন্দ্র মোহন সরকার ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সভা সমাবেশ করে আসছে।এদিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক ও তার লাঠিয়াল বাহিনী বিদ্যালয়ে ঢুকে ক্লাসে ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মুখ না খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যদি কেউ এই ঘটনা ফাঁস করে দেয় তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দুর্নীতিবাজ এই প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহার করা না হলে দুই/এক দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয় হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র মোহন সরকার বলেন, ‘বনভোজনে গিয়ে আমার মাথা ঠিক ছিল না। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের শাসন করেছি। এরপর আর ভুল হবে না।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
