উগ্র জাতীয়তাবাদ :ভারত ও চীনে খর্ব হচ্ছে ধর্মীয় স্বাধীনতা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৬

দেশে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে উত্তরোত্তর খর্ব করছে উগ্র জাতীয়তাবাদ। গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার। গত দুই বছরে যে ১৮টি দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদের এই ধরনের দাপাদাপি, আগ্রাসন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তার মধ্যে একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে ভারত ও চীনের নাম। আরো যে ৩৮টি দেশে হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা, তাদের মধ্যে রয়েছে নাইজিরিয়া, মিয়ানমার, আলজেরিয়া, তুরস্ক ও রাশিয়াও।

বেসরকারি ক্যাথলিক সংগঠন ‘এইড টু দ্য চার্চ ইন নিড’ এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট এই অশনিসংকেত দিয়েছে। ওই রিপোর্টের তথ্য ও পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত গত দুই বছরে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে বিশ্বের ২১টি দেশে, যাদের মধ্যে ভারত ও চীন ছাড়াও রয়েছে মিয়ানমার ও নাইজিরিয়ার নামও। গত দুই বছরে আলজেরিয়া, তুরস্ক, রাশিয়াসহ আরো ১৭টি দেশেও ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাতের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে বলে ওই রিপোর্ট জানিয়েছে। বিশ্বের ১৯৬টি দেশের উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

প্যারিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে ক্যাথলিক এনজিও’টির ফ্রান্স চ্যাপ্টারের প্রধান মার্ক ফ্রমাগার বলেছেন, ‘দেশে দেশে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর বর্বর আক্রমণের ঘটনা ঘটতে দেখেছি। বিশেষ করে, ভারত ও চীনের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুইটি দেশে গত দুই বছরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ঘটে চলেছে, তাকে আগ্রাসী উগ্র জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’

চীনে আগ্রাসী উগ্র জাতীয়তাবাদের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে ফ্রমাগার বলেছেন, ‘গত দুই বছরে সেখানে গির্জা ধ্বংস করা হয়েছে। উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের রমজান পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। তবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দুর্বল হওয়ায় সিরিয়া ও ইরাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাতের ঘটনা কমেছে।’