বাগেরহাটে মা-মেয়েকে মারধরের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৭, ১৮:০২
বাগেরহাটে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার মা ও বোনকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাট মডেল থানায় উত্ত্যক্তের শিকার কলেজ ছাত্রীর মা (নুরুন্নাহার বেগম) বাদী হয়ে নারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এই মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ উত্তক্ত্যকারী সুমন মোল্লার চাচী ফেরদৌসী বেগম (৩৮) নামে এজাহারনামীয় আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
তিনি এই মামলার অন্যতম আসামি বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে নূর ইসলাম মোল্লার স্ত্রী। তার ছেলে জোনা মোল্লাও এই মামলার আসামি। 
 
গত সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের রাস্তায় বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে এবারের এই্চএসসি পরীক্ষার্থী আসমা খাতুনের মা নুরুনাহার বেগম (৪০) ও স্কুল পড়ুয়া ছোট বোন নাঈমা ফেরদৌসি সুমিকে মারধর করে আহত করে প্রতিপক্ষরা। 
 
মামলার অপর আসামিরা হলেন- উত্ত্যক্তকারী সুমন মোল্লা, তার বাবা আবু সাঈদ মোল্লা, মা শাহানারা বেগম, বড় ভাই আলিমুল মোল্লা ও ভাবি পাচি বেগম।
 
উত্ত্যক্ত্যের শিকার কলেজ ছাত্রী আসমা খাতুন অভিযোগ করেন, এপ্রিল মাসে আমার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আমার মা ও ছোট বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলাকারীরা আমার প্রতিবেশি হওয়ায় ভয়ে বাড়িতে যেতে সাহস পাচ্ছিনা। তারা এখনো আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দিয়ে যাচ্ছেন। আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের ধরতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
 
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয়া হয়েছে। পুলিশ মঙ্গলবার রাত থেকেই হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সবাইকে ধরা যায়নি। তবে ওইদিনের হামলায় অংশ নেয়া এক নারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। হামলার শিকার ওই পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে ওই নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।