বাংলাদেশ শততম টেস্ট খেলছে কলোম্বোর পি. সারা স্টেডিয়ামে। ২০০০ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ১৭ বছর লেগে গেল শততম টেস্ট খেলতে।
৩ - ৯৯ টেস্টের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৫ ও ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় করে দলটি।
৭ - নিজেদের শেষ ৪১টা টেস্টে সাতটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। সেটার শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। এর আগের ৫৮টি টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল মাত্র একটিতে।
২১ - ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। টানা সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ হারার বিশ্ব রেকর্ড এটা। দ্বিতীয় রেকর্ডটি টানা ১০ ম্যাচ হারের। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে গিয়ে নিজেদের ৩৫তম টেস্টে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। কারণ, প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে ৪৪ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে।
২৫ - ২৫ বার টেস্টে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের কেউ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচবার এই পুরস্কার পান সাকিব আল হাসান। সাকিবের পরে তিনবার করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিকুর ও আশরাফুল। এমনকি তিনবার সিরিজ সেরাও হন সাকিব। এটিও বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেউই সিরিজ সেরা হতে পারেননি।
৪৬/৪৫ - বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছে মোট ৮৫ জনের। এর মধ্যে ৪৬টা সেঞ্চুরি আর ৪৫টি পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ।

৬১ - বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৭ বছর ৬১ দিন বয়সে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার। আশরাফুল ছাড়া ৫০ টেস্টের মাইলফলক পেড়িয়েছেন মাত্র দুজন। তারা হলেন মুশফিকুর রহিম (৫৩) ও হাবিবুল বাশার সুমন (৫০)।
১৭০ - সাকিবের টেস্ট উইকেট। বোলিং-এ বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী সাকিব। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সাকিবের পর ১০০ উইকেট শিকারী একমাত্র বোলার মোহাম্মদ রফিক।
২১৭ - নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের ওই ম্যাচেই সাকিব আল হাসান ২১৭ রানের ইনিংস খেলেন। সেটাই টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
৩৫৯ - টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। গেল জানুয়ারিতে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সাথে এই জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান। ওই ইনিংসে আট উইকেটে ৫৯৫ রান করেছিল বাংলাদেশ।
৬২১ - ৯৯টি টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা পেয়েছেন ৬২১টি উইকেট; আর পেসাররা পেয়েছেন ৪২২টি। স্পিনাররা পেয়েছেন প্রায় ৬০ শতাংশ উইকেট। টেস্টের ইতিহাসে কোনো দলের হয়ে স্পিনারদের এটাই সর্বোচ্চ পরিমাণ উইকেট শিকারের নজীর। এরপর আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তাদের শিকার ৫০ শতাংশ। তবে বাঁ-হাতি স্পিনাদের শিকারে শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বাংলাদেশ। দেশের বাঁ-হাতি স্পিনাররা শিকার করেছে ৪০.৯৪ শতাংশ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
২০১৪ - সালটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা বছর। ওই বছর তিনটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর । ঐ বছর ৯টি টেস্ট খেলে সব কটিতেই হেরেছে তারা।
৩৫৪৬ - টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওপেনার তামিম ইকবালের। এমনকি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তামিম। তামিমই বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি নিজের দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এমনকি বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
IMG0
টাইগারদের অর্জন
- সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাওয়ার দিন আশরাফুলের বয়স ছিল ১৭ বছর ৬৩ দিন।
- সবচেয়ে কম বয়সে ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এনামুল হক জুনিয়রের। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ১০ উইকেট নেওয়ার দিন এই বাঁহাতি স্পিনারের বয়স ছিল ১৮ বছর ৪১ দিন।
- ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১২ রান করেন তাঁরা।
- ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে টেস্ট অভিষেকেই ইনিংসের আদ্যন্ত ব্যাটিংয়ের কীর্তি গড়েছিলেন জাভেদ ওমর (৮৫*)। টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি আছে আর মাত্র দুজনের—অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক ব্যারেট ও ইংল্যান্ডর পেলহাম ওয়ার্নারের।
- ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনায় ইতিহাসের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির পাশাপাশি ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুজন ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম ও পাকিস্তানের ইমরান খান।
- টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের একমাত্র কীর্তি সোহাগ গাজীর। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে এই কীর্তি গড়েন সোহাগ।
- অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান ও জিম্বাবুয়ের ডেভিড হটনের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছেন আমিনুল ইসলাম। নাঈমুর রহমানের ১৩২ রানে ৬ উইকেট অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে কোনো বোলারের সেরা বোলিং।
- মাত্র পঞ্চম বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
- ২০১৩ সালের নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে ২০১৫ পাকিস্তান সিরিজ পর্যন্ত টানা ১১ টেস্টে কমপক্ষে একবার ফিফটি করেছেন মুমিনুল হক। মাত্র এক ম্যাচের জন্যই টানা ম্যাচে ফিফটির বিশ্ব রেকর্ড ছুঁতে পারেননি।
- টেস্ট অভিষেকে ১০ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ইনিংস বাংলাদেশের আবুল হাসানের (১১৩), ২০১২ সালে খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
পরিসংখ্যান: ইএসপিএন ক্রিকইনফো/বাসস
