মাঝেরপাড়া সড়কের বেহাল অবস্থা, দুর্ভোগে জনসাধারণ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৭, ০০:৫৯

চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ব্লকের মাঝেরপাড়া সড়কটি বন্যার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে অনেক আগে। প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কের বেহাল দশা অব্যাহত থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এ অবস্থার কারণে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের জনসাধারণকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সড়কের ভাঙনের পাশাপাশি কালভার্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে আশপাশের এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা যানবাহনে করে যাতায়াত করতে পারছে না। চলতি মৌসুমের বর্ষাকাল আসার পূর্বে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় সমুদ্র তীরবর্তী মহেশখালী চ্যানেলের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে  বদরখালী ইউনিয়ন। ৫০ হাজার জনগোষ্ঠী নিয়ে ৩টি ব্লকে বিভক্ত ইউনিয়নটি। তারমধ্যে ১ নম্বর ব্লকের পরিষদের এক নম্বর এ ওয়ার্ডটি একেবারে উন্নয়ন বঞ্চিত। প্রায় পাঁচশ’ পরিবারের অন্তত ৫ হাজার জনগোষ্ঠীর জনগুরুত্বপূূর্ণ যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হচ্ছে মাঝেরপাড়া সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকে। পাশের ডেমুশিয়া ও পশ্চিমবড় ভেওলা ইউনিয়ন,  বদরখালী ইউনিয়ন এবং বদরখালী বাজারের সাথে এ সড়কটি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।

জানা গেছে, বদরখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া সড়ক দিয়ে ওই এলাকার ৫ গ্রামের উত্তর নতুনঘোনা, বদরীপাড়া, মাঝেরপাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া ও ডেমুশিয়া পাড়ার বাসিন্দারা যাতায়াত করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের মধ্যখানে চিংড়ি ঘেরের পানি চলাচলের জন্য নির্মিত বক্সকালভার্টের গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ার ফলে জনগণের যাতায়াত করা মূলত চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি তাদের চিংড়ি প্রকল্পে পানি চলাচল ও বক্সকালভার্টে জাল বসিয়ে মাছ আহরণ করার ফলে এবং সড়কের ইট চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কারণে কালভার্টের দু’পাশে মাটি সরে যায়। এ অবস্থায় সড়কটি বর্তমানে যাতায়াত ও যান চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় এলাকার লোকজন জানান, প্রতিদিনই মাঝেরপাড়া সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ আসা-যাওয়া করে। এছাড়াও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বদরখালী বাজারে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। পাশাপাশি বদরখালী কলেজ, বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বদরখালী এম এস ফাজিল মাদ্রাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের বিষয়টি স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) বিভাগের অধিনে। বর্তমানে সড়কটি মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কয়েকবার মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে জানানো হবে।

ইত্তেফাক/নূহু