খাদ্য উত্পাদন আরো বৃদ্ধিতে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ০২:১৭

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, কৃষিকাজে এখন প্রযুক্তিযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ হিসাবে বিশ্বে যেমন পরিচিতি পেয়েছে তেমনি আমরা খাদ্য রপ্তানিও করছি। এই ধারা বৃদ্ধিসহ তা বজায় রাখতে কৃষকদের অধিক পরিশ্রমী হতে হবে, অলসতা ত্যাগ করতে হবে। সাথে কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বাড়ি-ঘরের উঠান-আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে বাগান, ফল ও শাকসবজি চাষের আওতায় আনতে হবে।

গতকাল রবিবার দুপুরে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগে শুধু কৃষি মেলা হত। এর সঙ্গে প্রযুক্তি কথাটি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের দেশের কৃষির নতুন মাত্রারই পরিচয় বহন করে। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই তখন অনেকে জানতে চান এখনও আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে কিনা। তাদের যখন বলি এখন শুধু খাদ্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই, খাদ্য রপ্তানিও করি। তারা প্রথমে আমাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা বিশ্বাস করতে চান না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কৃষি উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা ও আন্তরিকতা বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পৌঁছিয়েছে। এর সঙ্গে কৃষকের অবদানও ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী সরকারের সকল পর্যায়ের কাজের খবর রাখেন। তাই জনগণের উচিত তার সরকারকে সহযোগিতা করা, নিরুপদ্রব রাখা। সরকারকে অবশ্যই কাজ করতে দিতে হবে এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তি সহযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক ও সক্রিয় থেকে ভবিষ্যতে কৃষির আরও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই জন্য সরকারের প্রকল্পসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা দরকার। দক্ষিণাঞ্চলে ফসল উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক হারে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হচ্ছে। এ কাজ সফল হলে শুধু ফসলই নয় এ অঞ্চলে রবিশস্য উত্পাদনও আশাতীতভাবে বেড়ে যাবে। পাশাপাশি খাল খনন-পুনর্খনন, পুকুর সংস্কারসহ সেচ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এ সকল প্রকল্পসমূহ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় সেজন্য এলাকার জনগণকে নজরদারি স্থাপন করতে হবে। আমাদের সমাজে নারীর অনুপাত ৫০ ভাগ। খাদ্য উত্পাদন আরও বৃদ্ধির জন্য কৃষিতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগ ও পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন শেষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ভান্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পিরোজপুরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন তালুকদার, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল ও হাফিজুর রশীদ তারেক। এসময় মঞ্চে ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী তোফায়েল হোসেন, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম, ভান্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তালুকদার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির প্রমুখ। এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভান্ডারিয়া নতুন বহুতল বিশিষ্ট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপরোক্তরা ছাড়াও ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু