গ্রীসে বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত শনিবার প্রবাসী বাংলাদেশিরা দশটি দাবী নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেয়।
গ্রীক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য দাবীগুলো ছিল, বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, গ্রীসে বসবাসরত সকল অভিবাসীকে বৈধ করে নেওয়া, জেলে বন্দী থাকা সকল অভিবাসীকে মুক্ত করে দেওয়া, গ্রীসে জন্ম নেয়া সকল শিশুকে নাগরিক অধিকার দেওয়া, সকল বৈধ অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেওয়া, যুদ্ধ চলাকালীন সীমান্ত খুলে রাখা, বিশ্ব শান্তির লক্ষে যুদ্ধ ও বোমাবাজি বন্ধ করা, প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা,সগ্রীসের জাতীয় ও পৌর নির্বাচনে ভোটাধিকার দেওয়া এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
সমাবেশে গ্রীক বাংলাদেশ ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের পরিচালক আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে বর্ণবাদীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ইউরোপ জুড়ে বর্ণবাদীরা উৎসাহিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক একটি দেশে থেকে আমরা বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদীদের আশ্রয় দিতে পারি না। বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদীদের আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের বৈধতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাব। প্রবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান গ্রীক সরকারের সঙ্গে আলোচনা পর্যালোচনা অব্যহত থাকবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কখনো বৃথা যাবে না।
সভায় বাংলাদেশ কমিউনিটির সহ সভাপতি হাজ্বী আহসান উল্লাহ হাছান প্রবাসীদের দাবিসমূহ পড়ে শোনান। সভা শেষে ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এথেন্সের রাজপথ। মিছিলটি ওমনিয়া হয়ে সংসদ ভবনে আসে। সংসদসহ ইউরোপিয়ান কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯টি দেশে এই প্রথমরের মত একই সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। গ্রীসের এই সমাবেশে ২০৯টি সংগঠনসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়।
বাংলাদেশিদের মধ্যে অংশ নেয় বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীস, বাংলাদেশ গ্রীস ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ রাজনৈতিক নেতারা।
উপস্থিত ছিলেন আহছান উল্লাহ হাছান, আরিফুর রহমান আরিফ, খালেক মাতুব্বর, আশরাফ উদ্দিন টিপু ঠাকুর, চন্দন উদ্দিন চৌধুরী, জালাল উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক টিটু, আহমেদ সোহেল, রিয়াদ লস্কর, আরিফুল ইসলাম তালুকদার, জহির ডাকুয়া, শরিফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন রনি, আমিনুল হক সুফি, সামসুল আলম ডিপটি, মোরসেদ রুমি, মো. জাকির হোসেন, জাহিদুল হক, লোকমান হোসেন, মো:নুর-ই-জান্নাত এবং রাসেল।
ইত্তেফাক/নূহু
