৭০ বছরেও সইরে ফুলির ভাগ্যের ফুল ফোটেনি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ০৩:৪১

দারিদ্র্যতার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাননি বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা সইরে ফুলি। বয়স তাকে বহু নারী দিবসের মুখোমুখি করলেও ভাগ্যের ফুল ফোটেনি। পড়েনি সমাজ সেবা অফিসের সুনজরে। ৭০ বছর বয়সেও ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড। ভাঙা হাত পা নিয়ে তিনি টুলের উপর ভর করে ১১ বছর ধরে ভিক্ষা করছেন।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ পৌর শহরের নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সইরে ফুলির স্বামী আবুল মিয়া প্রায় একযুগ পূর্বে মারা যায়। দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ সন্তানের জননী সইরে ফুলি অসহায় হয়ে পড়েন। সন্তানরা কেউ তার দেখা শোনা করে না। উপায় না পেয়ে বাঁচার তাগিদে ভিক্ষা বৃত্তির পেশা বেছে নেন। ভিক্ষা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে তার হাত পা ভেঙে যায়। টাকার অভাবে সুচিকিত্সা করানো সম্ভব হয়নি। ভাঙা হাত পা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। তাই টুলের উপর ভর করে ১১ বছর ধরে গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বয়সের ভারে ন্যূব্জ ও নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সইরে ফুলি এখন ভিক্ষার জন্য সবসময় বেরোতেও পারেন না। ভিক্ষার পরিমাণও কমে গেছে। তাই অনাহারে অর্ধাহারে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে অসহায় পঙ্গু নারী সইরে ফুলি।

এ ব্যাপারে সইরে ফুলি জানান, আমি বুড়ি (বয়স্ক) মানুষ। নারী দিবস যায়, কত দিবস যায় আমি হুনি ( শোনি)। আমাহে (আমাকে) তো কেউ দেহে না (দেখে না)।

পৌর কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজন জানান, নানা কারণে সইরে ফুলিকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু