নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাতে চাঁদাবাজি!

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৭, ০৩:০৪

নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাত থেকে প্রতিদিন অর্ধলাখ টাকার উপরে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালীরা। যার কারণে ফুটপাত কোনোভাবেই দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন নগরবিদরা।

সূত্র বলছে, নগরীর ফুটপাতকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের চাঁদাবাজি হয় প্রতিদিনই। এই তিন স্তরে প্রত্যেককে ৩০ টাকা হারে ৯০ টাকা চাঁদা দিতে হয় প্রতিটি হকারকে। চাষাড়া থেকে পুরো নগরীতে প্রায় সাতশ দোকান রয়েছে। যার মোট অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৩ হাজার টাকা। মূলত মোটা অঙ্কের এই চাঁদার জন্যই শত চেষ্টা করেও ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে সকালে দখলমুক্ত করা হলে বিকেলের আগেই তা আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে।  

প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ফুটপাত দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এখানকার চাঁদাবাজির একটি অংশ পাচ্ছে ওই প্রভাবশালীরা। আরেকটি অংশ পাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এছাড়াও ফুটপাত দখল করা হকারদের অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে একটি চক্র।

স্থানীয়রা বলছে, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের তত্পরতায় প্রতিদিনই হকার উচ্ছেদ অভিযান চলে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। একদিক থেকে উচ্ছেদ হলেও আরেক দিক থেকে দখল করতে শুরু করে হকাররা। এদিকে হকারদের দখলে ফুটপাত চলে যাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। পাশাপাশি ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার শিকারও হতে হচ্ছে নারী পথচারীদের। এছাড়াও হকারদের ভিড়ে পকেটমার, ছিনতাইকারী চক্রও ওত পেতে থাকে। সুযোগ বুঝেই তারা নারী-পুরুষের পকেট কেটে নিচ্ছে।

তবে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেছেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন জড়িত নয়। আর উচ্ছেদ করার পর কারা আবার ফুটপাত দখল করে সে ব্যাপারে কিছু জানি না।

ইত্তেফাক/নূহু