যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়ার পর এবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণে আন্দোলন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৭, ১৩:৪৮
 
যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কলকাতায় আন্দোলন পরিচালনার পর এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের জন্য আন্দোলনে নেমেছে কলকাতার উগ্রবাদী একটি মুসলিম গোষ্ঠী। কলকাতার মুসলিম শিক্ষার্থীদের হোস্টেল বেকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঘরে থাকতেন সেখানে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয় ২০১১ সালে। সেই সঙ্গে ঘরটিকে একটি ছোট সংগ্রহশালা হিসেবে তৈরি করে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস। পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এই ঘরে থাকা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি অপসারণের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হয় স্থানীয় এক থানায়।
 
বিডি নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উগ্র এই মৌলবাদী গোষ্ঠীটি বাংলাদেশে চলা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছিল। তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ইসলাম ও বিএনপি'র নেতাদের রক্ষার জন্য গত কয়েক বছরে ধরে বেশ কয়েকবার মিছিল, মিটিং ও আন্দোলন করে। এ সময় তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। দ্য হিন্দু প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের নিজের পক্ষে রাখতে সিদ্দিকুল্লাহ ও সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
 
এই আন্দোলন কেন করা হচ্ছে তা জানতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এটি একটি মুসলিম হোস্টেল। এখানে কোন মূর্তি থাকতে পারে না। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা এই মূর্তি অপসারণের জন্য একটি স্মারকলিপি নিয়ে বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশের বাঁধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় থানায় আমরা স্মারকলিপিটি প্রদান করি এবং তারা এটি গ্রহণ করে।
 
স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি কলকাতা পুলিশ। সেখান থেকে জানানো হয়, গুটি কয়েক ছাত্র মিছিল করে বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে আমরা বাঁধা দেই এবং তাদের ফিরে যেতে বলি।
 
উল্লেখ্য, উগ্রবাদী এই মুসলিম গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমানে বেশ ভাল সম্পর্ক তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বেশ ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বাংলাদেশে চলা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিরোধী আন্দোলনে কলকাতার এই উগ্রবাদী মুসলিম গোষ্ঠীটির সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিকভাবে ভারত কেন্দ্রীয় সরকারকে বিব্রত কর এক অবস্থায় ফেলা এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
 
শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের জন্য হওয়া এই আন্দোলন সম্পর্কে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে নিযুক্ত ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদ বলেন, 'ভাস্কর্যটি ৭ বছর ধরে এখানে রয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনসহ অন্য কোন গোষ্ঠী এ বিষয়ে আপত্তি জানায়নি। তাহলে এখন কেন এই আন্দোলন?'
 
ইত্তেফাক/রাফাত