দিনটি ২১ মার্চ মঙ্গলবার। সময় তখন বেলা সাড়ে ১১টা। পারিবারিক বিরোধে জের ধরে বড় ভাই ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। সেই সময়ে বৃদ্ধ বাবা চেয়ার থেকে উঠে দুই ছেলের বিরোধ মেটানোর জন্য তাদের কাছে যাচ্ছিল। কাছে আসতেই ওই বৃদ্ধ হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ওই বৃদ্ধের মেঝো ছেলে মানিক তার বাবাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার সকালে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল খালেক (১০১) পরলোক গমন করেন। হাসপাতালে বাবার লাশ আনতে আসলে দুই ভাই আফতাব উদ্দিন (৫৫) ও হিরা মিয়া (৩৫) কে আটক করে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকায়। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ ও মৃত আব্দুল খালেকের পরিবার।
ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মশিউর রহমান জানান, জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকার আব্দুল খালেকের দুই ছেলের বিরোধ মেটোনোর সময় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত আব্দুল খালেকের নাম হাসপাতালের পুলিশ খাতায় লেখার কারণে তার দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। লাশের শরীরে আঘাতের কোন দাগ পাওয়া যায়নি। যেহেতু পুলিশ খাতায় নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে তাই লাশ ময়না তদন্তের উপর বাকি বিষয়টি নির্ভর করবে।
আব্দুল খালেকের মেঝো ছেলে মানিক জানান, বাবা পরে যাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এতে আমরা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। ভর্তির সময় মারামারির কথা আসলে হাসতালের জরুরি বিভাগ পুলিশ খাতায় নাম উঠায়। কিন্তু বৃদ্ধ বাবাকে আমার কোন ভাই আঘাত করেনি। বাবা বিরোধ মেটানোর জন্য যাওয়ার সময় পরে যায়। হাসপাতালে পুলিশের খাতায় নাম উঠার কারণে দুই ভাইকে হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়েছে। এখন এ নিয়ে আমাদের পরিবার বিপাকে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী মিজানুর জানান, ছেলেদের আঘাতে চাচা অসুস্থ হয়নি। আমরা প্রতিবেশীরা ঝগড়া মেটানোর সময় হঠাৎ দেখি খালেক চাচা মাটিতে পড়ে আছে। পড়ে সবাই মিলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজ (বুধবার) খালেক চাচার মৃত্যুর খবর শুনলে আমরা হতবাক হয়ে পরি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকায় আব্দুল খালেককে (১০১) অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরলে তার চিকিৎসা দেয়া হয়। বুধবার সকালে সে মৃত্যু বরণ করেন।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবির জানান, মৃত খালেক ছেলেদের বিরোধ থামানোর সময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ খাতায় নাম উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, জরুরি বিভাগে কোন রোগী ভর্তি হলে কি কারণ জানতে চাওয়া হয়। মারামারি বা দুর্ঘটনার কারণে জরুরি বিভাগে ভর্তি হলে পুলিশ খাতায় নাম উঠানো হয়।
জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টার জানান, আমি তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটানোর সময় আব্দুল খালেক সামনে আসতে গিয়ে পরে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। কিন্তু হাসপাতালে পুলিশ খাতায় নাম উঠার কারণে দুই ছেলেকে আটকের ফলে আমরা ও পুলিশ বিপাকে পড়েছে। এটি কোন হত্যার ঘটনা নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত ছেলে আফতাব ও হিরা জানান, আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। আজ সকালে হাসপাতালে বাবা মারা যায়। আমরা বাবার লাশ আনতে আসলে পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে আসে। বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে আমাদের কোন প্রকার ঝগড়া বিবাদ ছিল না।
ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান আরো জানান, আব্দুল খালেকের ৫ সন্তান। বাকি সন্তানদের যদি কোন অভিযোগ পাওয়া না যায় তাহলে মামলা রুজু করা হবে।
ইত্তেফাক/রাফাত
