চলমান আন্দোলনের সপ্তম দিনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগ দাবি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর ভিসির বিরুদ্ধে ২৫টি অভিযোগ উল্লেখ করে স্মারকলিপি পেশ করেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে শিক্ষার্থীরা আমরন অনশনসহ কঠোর আন্দোলনে যাবার ঘোষণা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও স্মারকলিপিতে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত না করা এবং এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটুক্তি করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে ২৫টি পয়েন্টে ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নির্দিষ্ট আকারে তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে পদোন্নতি, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর জরিমানাসহ বিভিন্ন অযুহাতে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর ও সবুজায়ন না করা ইত্যাদি।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে মৌখিতভাবে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করবেন। এসময় তিনি (জেলা প্রশাসক) বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘ভিসি শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটুক্তি করেননি বলে দাবি করে বলেছেন-শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড রাজাকার সদৃশ। আমাদের প্রশ্ন রাজাকার সদৃশ, রাজাকারের পক্ষের শক্তি ও রাজাকারের মধ্যে পার্থক্য কি? এরআগেও দুইবার বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।’
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বর্তমানে মেডিকেল সেবা ও ডাইনিং বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরেও আমরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো সুরাহা না হলে আমরন অনশন কর্মসূচিসহ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে পরিনত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়-ভিসি’র নির্দেশে গত তিনদিন যাবত ডাইনিং বন্ধ করে দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্নস্থানে বসে কেউ খেতে পারছে আবার অনেকে না খেয়ে আছেন। এতে করে অনেক শিক্ষার্থীরা অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
আরও পড়ুন: টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত দিল্লির
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের না জানানোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন। পরে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ভিসি রাজাকারের সন্তান বললে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। এরইমধ্যে ২৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ না করে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসি ড. এসএম ইমানুল হকের পক্ষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসির দেওয়া বক্তব্য ও আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভিসি তার বক্তব্যের মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছেন বলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের টানা সাতদিনের আন্দোলন কর্মসূচিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলছে।
ইত্তেফাক/কেকে
