পাকিস্তানের করাচিস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনার নুরে হেলাল সাইফুর রহমান বলেছেন রাষ্ট্রীয় মদদে পাকিস্তান একাত্তরের গণহত্যার দায় অস্বীকার করে আসছে। শনিবার যথাযোগ্য মযার্দায় করাচিস্থ উপ হাইকমিশনে স্মরণ করা হয় জাতীয় গণহত্যা দিবস।
দিবসটি স্মরণে হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং এক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে কালোব্যাজ পরানো হয় উপ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে। উপস্থিত সবাইকে নিয়ে উপ হাইকমিশনার নুরে হেলাল সাইফুর রহমান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
উপ হাইকমিশনারের বক্তব্যে বলেন ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গৃহীত ১০২১ নম্বর প্রস্তাব ‘কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অফ দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইড’ এর আলোকে গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গণহত্যা হচ্ছে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীকে আংশিক বা পুরোপুরি নির্মূলে করার উদ্দেশ্যে সাধিত ৫টি কাজ। যা হচ্ছে স্বাধীনতাকামী গ্রুপের সদস্যদের হত্যা করা, তাদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি সাধন, পরিকল্পিতভাবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে তাদের শরীর তত্ত্বীয় বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট হয়, তাদের জন্মহার কমিয়ে ফেলার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও দেশত্যাগে বাধ্য করা।
আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যাকান্ডের ৮টি স্তর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনারা যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চারিয়েছে তার সবই উক্ত আটটি পর্যায়ের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এই ৮টি স্তরের শেষটি হচ্ছে নিজেদের কৃতকার্য অস্বীকার করা ও উল্টো এর দায়ভার ভুক্তভোগীদের ঘাড়েই চাপিয়ে দেয়া। রাষ্ট্রীয় মদদে পাকিস্তান এ কাজটি শুরু থেকেই করে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আলোচনা শেষে ‘একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’ শীর্ষক প্রামণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ইত্তেফাক/সাব্বির
