আজো আখাউড়ার নারায়ণপুরের গণকবরের স্বীকৃতি মেলেনি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৭, ০২:৪৩

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো স্বীকৃতি মেলেনি আখাউড়া পৌর শহরের নারায়ণপুরের গণকবরটির। সরকারিভাবে চিহ্নিত ও সংরক্ষণ না করায় গণকবরটি বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ২৮ জন এখানে শায়িত আছেন। গণকবরটিতে কোনো বেষ্টনী না থাকার কারণে এর উপর দিয়ে মানুষসহ গবাদি পশুর রয়েছে অবাধ চলাচল। ফলে নষ্ট হচ্ছে কবরস্থানের পবিত্রতা।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আখাউড়ার গুরুত্ব ছিল দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেকাংশে বেশি। একাত্তরের ৫ই মে দুপুরে মুক্তিবাহিনীর খোঁজে আখাউড়া ও আজমপুর পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প থেকে দুইটি দল আখাউড়া পৌর শহরের নারায়ণপুর গ্রামে হানা দেয়। তাদের মিশন পুরোপুরি সফল না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়-স্বজন ও মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৮ জন বৃদ্ধ ও যুবকদের ধরে নিয়ে যায়। অন্যান্য গ্রামের আরো ১০ জনসহ মোট ২৮ জনকে ওই দিন বিকেলে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের নারায়ণপুর খালের পাড়ে হাত-পা বেঁধে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে খালে ফেলে দেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে খালের পানিতেও গুলি করে এবং রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে তাদের হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।

আখাউড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মন্তাজ মিয়া বলেন, যুদ্ধচলাকালীন মায়ের সাথে ত্রিপুরা চলে যাই। বাড়িতে বাবা ও চাচারা ছিল। ত্রিপুরা থেকে শুনেছি ওইদিন আমার বাবা মুকসুদ আলী ও চাচা ওসমান আলীসহ আমাদের গ্রামের ১৮ জন যুবক-বৃদ্ধসহ ২৮ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। মানুষের রক্তে লাল হয়ে ওঠে খালের পানি। পরে দেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার পর খাল থেকে লাশের হাড়গুলো তোলে নারায়ণপুরের অন্য স্থানে কবর দেয়া হয়েছে।

নারায়ণপুরের মো. নাজির হোসেন বলেন, আমার মায়ের মুখ থেকে শুনেছি আমার বাবা বদর উদ্দিন জমিতে হাল চাষ দিয়ে বাড়িতে আসেন। এ সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা আসে আমাদের বাড়িতে। তখন আমার বড় ভাই মো. আবুল মাজন মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিয়ে ত্রিপুরা থেকে বাড়ির উঠানে এসে দাঁড়ান। এ সময় বাবা ও ভাইকে ধরে নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেন।

ওই গ্রামের মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ওখানে আমার আত্মীয়-স্বজনসহ ২৮ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্যরা।

আখাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আবু সাইয়িদ মিয়া বলেন, নারায়ণপুর গণকবরের অনুমতির জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু