কুমিল্লা সিটির নির্বাচন পরশু

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৭, ০০:৩৩

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে পরশু। নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ায় একে তাত্পর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ ইসির অধীনে হবে। তাই নতুন এ কমিশনের অধীনে নির্বাচন কেমন হয় তা দেখার জন্য সারাদেশের মানুষের চোখ এখন কুমিল্লার দিকে। এদিকে দলীয় প্রতীকের নির্বাচন হওয়ায় ভবিষ্যত্ রাজনীতির নানা মেরুকরণে পুরো নির্বাচনটি কার্যত ‘নৌকা বনাম ধানের শীষ যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। দুই দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের গণসংযোগ আর মিছিলে মিছিলে গতকাল সোমবারও মুখর ছিল নগরী।

আজ মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের প্রকাশ্য প্রচার-প্রচারণা। এদিকে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশা ও শঙ্কার দোলাচলে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন  অনুষ্ঠানে ইসির ওপর আস্থা রাখতে চান বলে জানিয়েছেন। বহিরাগতদের গতকাল রাত ১২টার মধ্যে কুসিক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তবে গতকাল বিকালের মধ্যেই উভয় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

নগর জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হচ্ছে। এছাড়াও স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংরক্ষিত আসনে একজন করে ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি তদারকি করবেন। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। ১০৩টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলা এলাকায় ৭২টি ভোটকেন্দ্র এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা এলাকায় ৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করে প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং র্যাবের ৮ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করবে। কুমিল্লাস্থ র্যাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর মোস্তফা কায়জার জানান, র্যাবের ৩৩৮ জন সদস্য এ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছে। ভোটের দুদিন আগে থেকে এবং নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত টানা চার দিন ২৭টি ওয়ার্ডে আট জন করে ২১৬ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। অপর সদস্যরা সাদা পোশাকে নজরদারিসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো আছে, কোনো শঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত সিটি এলাকায় উল্লেখ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ইসির এমন আশ্বাসেও অস্বস্তি কাটছে না প্রার্থী ও ভোটারদের। কারণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্যের তেমন কোনো বার্তা নেই।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে মাঠে কাজ করা নেতাকর্মী, এজেন্ট ও সমর্থকদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি, গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল নগরীর ধর্মসাগরপাড়স্থ বিএনপির নির্বাচনী প্রচার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুসিক নির্বাচনের মেয়র পদে দলের প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনে মাঠে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সরকার দলীয়রা পুলিশকে ব্যবহার করছে। সাক্কুর পক্ষে মাঠে কাজ করা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও আটক করে পুরাতন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী ও তাদের নেতারা নিয়মিত আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ দাখিল করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ।

প্রার্থীদের গণসংযোগ

বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু নগরীর কাপ্তানবাজার, বাখরাবাদ, পুলিশ লাইন, দক্ষিণ চর্থাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নগরীর দক্ষিণ চর্থা, থিরাপুকুরপাড় ও রেইসকোর্স এলাকায় গণসংযোগ করেন।

ইত্তেফাক/নূহু