সিরাজগঞ্জে পানিশূন্য নদ-নদীগুলি, পণ্যপরিবহনে দুর্ভোগ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৩:০৪
 
শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জের অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা, ফুলজোড়, ইছামতি, বড়াল, হুড়াসাগরসহ বিভিন্ন নদী পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। পানির গভীরতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ফলে নৌরুটগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নদী পথে যাতায়তকারীদের পরতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নদীর বুক জুড়ে বিশাল বিস্তৃত চর ও ডুবোচর জেগে উঠেছে। এতে নদী পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নৌযান মালিকদের ভোগান্তির শেষ নেই। নদ-নদীর নব্যাতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
 
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলটা চরের নৌ-ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানায়, বর্তমানে যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদীর মধ্যে বড় বড় চর জেগে উঠেছে। যে কারণে নৌকা চলাচল করতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সে আরো জানায়, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় যে জায়গায় ১ ঘন্টায় যাওয়া যেত সেখানে এখন দেড় দুই ঘন্টা সময় লাগে যে কারণে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয়বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে গেলেও শহরে এসে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারায় লোকশানের মুখে পরছে তারা। উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি, স্যার, খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৭০ দশকে বাঘাবাড়ি নদী বন্দর স্থাপন করা হয়েছিল। এই বন্দরে গড়ে উঠেছিল বিপিসির তিনটি জ্বালানি ডিপো। এখান থেকেই বিপিসির তিনটি বিপণন সংস্থা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা উত্তরাঞ্চলের জ্বালানির সরবরাহ করে আসছে। নৌ-রুটের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বোরো মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপিসির বাঘাবাড়ি ডিপো কর্তৃপক্ষ সংকট মোচনে ডিপোতে জ্বালানি মজুদ গড়ে তুলেছে। গড়ে তোলা হচ্ছে সারের মজুদও। 
 
চলতি মৌসুমে এসব নদীর পানি প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। পানির গভীরতা কোথাও কোথাও  ২ ফুট থেকে ৩ ফুটের মধ্যে এসেছে। নদীর এ গভীরতায় নৌ-চলাচল অসম্ভব। নৌ-যান চলাচলে ৫ ফুট থেকে ৬ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। এছাড়া ভাঙ্গনে গত ৩০ বছরে যমুনা,  প্রশস্ততা বেড়েছে অনেক । সমগ্র নদী জুড়েই এখন শুধু চর।