সিলেটে অপারেশন সমাপ্ত, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাবাহিনীর

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৭, ০৯:০৮
 
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের যে কোনো বিপদ সংকুল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতের ন্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত। সিলেটে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর মতো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান অংশগ্রহণকারী সদস্যরা কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সম্পন্ন করতে পেরেছে। এছাড়া এই পুরো অপারেশন পরিচালনায় পুলিশ, র‌্যাব, সোয়াত, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনসহ এলাকাবাসী যে সহায়তা করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
 
গতকাল মঙ্গলবার আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে পুলিশের সোয়াত সদস্যরা ২৪ মার্চ বিকালে ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা ও বিচার বিশ্লেষণ শেষে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও বিস্ফোরক ঝুঁকির বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর সহায়তা কামনা করেন। পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনী অপারেশনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও বিশেষায়িত কমান্ডো দল পরদিন অভিযান শুরু করে।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। অপারেশনে মূলত দুটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। প্রথমত, ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া। দ্বিতীয়ত, জঙ্গিদের নির্মূল করা। অপারেশনের প্রথম পর্বটি ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোরা তাদের জীবন বাজি রেখে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অভিনব কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১ জন শিশুসহ ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। এ সময়ে বৈরী আবহাওয়া অপারেশন সফলভাবে শেষ করার জন্য নিয়ামক হিসাবে কাজ করে।
 
পরে অভিযান দল তাদের দ্বিতীয় পর্বের তথা জঙ্গিদের নির্মূলের কার্যক্রম শুরু করে। এ পর্বে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের পাশাপাশি স্নাইপার দল এপিসিসহ বিশেষায়িত অনেক সদস্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। তিনদিন একটানা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ২৭ মার্চ বিকেলের মধ্যে চারজন জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়। মূলত সেদিনই অভিযান শেষ হয়। তবে আরও বিশদ তল্লাশি ও নিশ্চিত হওয়ার জন্য মঙ্গলবার দিনটি ব্যবহার করা হয়। সোমবার দুটি মৃতদেহ বের করে পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি যে দুটি মৃতদেহ ছিলো সেগুলো সুইসাইডাল ভেস্টসহ থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তা বিবেচনায় ও পুলিশ প্রশাসনের পরামর্শে ঘটনাস্থলে এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের আগে প্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। সকল কার্যক্রম শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ভবনটি ক্রাইমসিন হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।