তুরস্কে স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৭, ২০:৪৫
 উৎসব মুখর আবহে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে  বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারা-তে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হল।২৬ মার্চ ২০১৭প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী’র নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। 
 
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতেই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। বাণী পাঠ সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রদূত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অদম্য নেতৃত্ব গুণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান, জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে সেই অবদানে কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা উচিত মর্মেও রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। 
 
সবশেষে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারীসকল শহীদ’দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মঙ্গলবার আঙ্কারাস্থ সুইস হোটেলে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের অর্থমন্ত্রী নাসি আগবাল। তুরস্কের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং নৌবাহিনীর প্রধান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সামরিক বিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যগণ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীরা উক্ত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। 
 
উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তাঁর সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব’র বিষয়টিকেও রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকীতে প্রধান অতিথি, নাসি আগবাল তাঁর বক্তৃতায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের জনগণকে স্বাগতিক রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 
 
তিনি বাংলাদেশ এবং তুরস্ক ভাতৃপ্রতিম এ দু’দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিশেষতঃবাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের ৪৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস স্মরণে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারা প্রথমবারের মতো ‘ইমার্জিং বাংলাদেশ বিকনস’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রকাশনা মুদ্রণ করেছে। তুরস্কের জনসাধারণের কাছে বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে তুলে ধরতে উক্ত প্রকাশনাটি ইংরেজি এবং তুর্কী উভয় ভাষায় মুদ্রণ করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বিতরণের পূর্বে প্রধান অতিথি প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
 
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান চলাকালীন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার উপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস, ঐ একই হোটেলের ছবি গ্যালারীতে দেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং উন্নয়নের উপর বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলোক চিত্রশিল্পী পাভেল রহমানের একটি একক আলোক চিত্র-প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। প্রেস রিলিজ।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির