প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মহামায়া লেককে ঘিরে গড়ে তোলা হবে আধুনিক পর্যটন জোন। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার এই লেকটি পরিদর্শন শেষে গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ তিন মন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনচালিত বোটে মহামায়া লেক এলাকা ঘুরে দেখেন।
সেচ ও মত্স্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড়ের কোলের সম্মুখে বাঁধ ও ড্যাম নির্মাণ করে মহামায়া লেক গড়ে তোলা হয়। মহামায়া ছড়া যা পাহাড় থেকে সৃষ্ট ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি বাঁধের সাহায্যে আটকে রাখা হয়। শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার লোকজন ওই পানি ব্যবহার করে উপকৃত হন। পরিকল্পিত এই বাঁধের মাধ্যমে সৃষ্ট লেক একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু লোক যা পরিদর্শনে আসেন। প্রায় ১২ বর্গমাইলের অনেকগুলো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মহামায়া লেকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বোটে পরিদর্শন করতে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মহামায়া এলাকায় পর্যটকদের জন্য কেবল কার ও টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার পাহাড় টিলা এসবের সৌন্দর্য দেখে খুব ভালো লাগে। তিনি মহামায়া লেক এলাকা যাতে পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষণীয় এলাকায় পরিণত হয় সেজন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। মহামায়া লেক এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, মহামায়া লেক নির্মাণের ফলে এ এলাকার লোকজনের শুষ্ক মৌসুমে বিরাট উপকার হচ্ছে। একই সাথে বাঁধ ও রাবার ড্যাম সৃষ্টির ফলে এ এলাকা বর্তমানে পর্যটকদের প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মহামায়া লেক ও মুহুরী এলাকা নিয়ে মীরসরাই এলাকায় একটি টুরিস্ট কমপ্লেক্স গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এর জন্য আমরা সকলে সহযোগিতা করব। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মহামায়া লেক পর্যন্ত আসতে ভঙ্গুর প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে নির্মাণ করা হবে বলে জানান। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা থাকলে এটি দ্রুত এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক এলাকায় উন্নীত হবে। তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দীর্ঘদিনের কর্মময় জীবনের প্রশংসা করেন। সুধী সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ছাড়াও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
