নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো ৬ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে শুক্রবার দুপুরে ডুবুরী দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো ৬ নারীর লাশ উদ্ধার করে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে মেঘনা নদীর তীরে চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় ভিড় করছেন নিখোঁজের স্বজনেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি বৃহস্পতিবার ডুবে যাওয়ার পর নদীতে থাকা একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড অর্ধশতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া কমপক্ষে ১৫ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী পীরজাদা শহিদুল্লাহ জানান, এখনও তাদের দলের ৯ জনের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গতকাল শুক্রবার উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ঢাকার রামপুরা এলাকা শফিক মিয়ার মেয়ে রুবিনা আক্তার (৩০), রুবিনার মা শাফিয়া আক্তার (৪৬), সাইদুর রহমানের স্ত্রী রানু আক্তার (৩২), শান্তা আক্তার (৩২), ভানু বেগম ও জয়বুন নেছা (৬৫) রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ভানু বেগম, জয়বুন নেছা, শান্তা আক্তার ও রানু আক্তার একই পরিবারের।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার বিকালে ৯০ জন যাত্রী নিয়ে রাজধানী রামপুরা থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে মতলবের বেলতলি সোলেমান শাহ ওরফে লেংটার মেলায় যাচ্ছিল। বিকাল ৪টার দিকে সোনারগাঁওয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীতে ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর ডুবুরী দল নদীতে তল্লাশি চালিয়ে এক শিশু, দুই নারীসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে। ওই সময়ে উদ্ধারকৃত ৪ জন হল ঢাকার রামপুরা এলাকার আব্দুস সাত্তার , তার মেয়ে লামিয়া আক্তার নদী , জোহরা বেগম , কাঞ্চন বেগম।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আর কোন লাশ উদ্ধার করার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/রাফাত
