ভাওয়াল কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ১২

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৩৯
 
ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।  এসময় গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৫জন আহত হন।  পরে পুলিশ ধাওয়া করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অনিক সরকারসহ ১২জনকে আটক করে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 
 
পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানায়, শনিবার দুপুরে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও কলেজের শেখ ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রী নিবাস উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।  অনুষ্ঠান শেষে তিনি চলে যাবার সময় কলেজ গেটের সামনে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী মন্ত্রীর গাড়ি আটকিয়ে কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।  এসময় ছাত্রলীগের অপর অংশের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়।  এতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।  বিক্ষুব্ধরা কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের টেবিল ও জানালার কাঁচ, টেলিভিশন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে।  এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  একপর্যায়ে মন্ত্রী পুলিশ প্রহরায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।  
 
উভয় পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শাখাওয়াত হোসেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সৌরভসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।  আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  ঘটনার পর  চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রলীগ একটি অংশ মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ সেখান থেকে ধাওয়া করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকারসহ কমপক্ষে ১২জনকে আটক করে।  
 
এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।  এ ঘটনায় ১২জনকে আটক করা হয়েছে।  তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর জেরিনা সুলতানা জানান, অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রীকে বিদায় জানানোর পর কলেজ গেটে একদল ছাত্র মন্ত্রীর গাড়ি আটকিয়ে শ্লোগান দেয়।  পরে উত্তেজিত ছাত্ররা কলেজ ক্যম্পাসে হামলা চালিয়ে তার কক্ষ ভাঙচুর করে।  
 
ইত্তেফাক/কাউছার