কৃমিনাশক খেয়ে অসুস্থ ছয়শ’ শিক্ষার্থী

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৭, ০০:২০

কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি জেলা থেকে অন্তত ছয়শ’ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ট্যাবলেটের কারণে নয়, মূলত মানসিক কারণে এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছেন চিকিত্সকরা।

ঝিনাইদহ থেকে আমাদের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, শৈলকুপায় কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় দু’শ শিক্ষার্থীকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত অভিভাবকরা হাসপাতালে ভিড় করেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে সকালে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। প্রথমে অচিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এরপর একে একে দেবতলা প্রাইমারি স্কুল, কবিরপুর প্রাইমারি স্কুল, হিতামপুর প্রাইমারি স্কুল, কাতলাগাড়ি হাইস্কুলসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে।   সরেজমিনে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে   দেখা যায়, বিকাল ৪টা পর্যন্ত অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে আসছে। অভিভাবকরা বাইরে থেকে স্যালাইন কিনছেন। হাজার হাজার আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করেছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিত্সা দিতে ডাক্তাররা হিমশিম খাচ্ছেন।

অচিন্তপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, সকাল ১০টার দিকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। দু’জন শিক্ষার্থী বাথরুমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরো ৬০-৭০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের শৈলকুপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার বাবর জানান, তিনি খবর পেয়ে প্রথমে অচিন্তপুর স্কুলে যান। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। চিকিত্সা নিলে ঠিক হয়ে যাবে।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার রাশেদা সুলতানা জানান, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতিমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছে। তিনি আরো বলেন, কৃমির ট্যাবলেট খেলে কেউ অসুস্থ হয় না। মনস্তাত্ত্বিক কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  জানান, কৃমিনাশক খেয়ে জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিত্সা দেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ছাত্রী। শিক্ষার্থীরা অসু্স্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ ও খাওয়ানো হয়। কৃমিনাশক খাওয়ার পর পরই শিশু শিক্ষার্থীদের মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং তারা বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুর একটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুলের  দুইশ অসুস্থ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদিকে কারণ অনুসন্ধানে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিমের সদস্যরা হাসপাতালে এসে অসুস্থদের খোঁজ-খবর নেন এবং আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।  

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক তাপস কুমার সরকার জানান, খালি পেটে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম আর চিকিত্সায় শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন নাজমুল ইসলাম জানান, অসুস্থদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

ইত্তেফাক/নূহু