বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে সরকার। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আজ রবিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন দাখিল করা হয়।
বিচারপতি মিফতাহউদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বশির উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ গত বুধবার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ বাতিল চেয়ে গত জানুয়ারি মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ আমলে নেওয়ার মত কোন উপাদান এই মামলায় নেই। এরপরেও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগ আমলে নিয়েছে। এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আবেদনে আরো বলা হয়, বাদীর মামলা দায়ের করার আইনগত কোন এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্র বা সরকারি কোন কর্মকর্তা এই মামলা দায়ের করতে পারেন। কিন্তু বাদী একজন আইনজীবী। ফলে মামলা দায়েরের কোন এখতিয়ার বাদীর নেই।
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, “আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।” মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে খালেদা জিয়াকে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। কিন্তু নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি। গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৫ জানুয়ারি ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন ওই আইনজীবী। মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার ওই দিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে হাজির হয়ে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। এরপর অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
