খালিয়াজুরীতে বাঁধভেঙ্গে তলিয়ে গেছে হাজার একর জমির ফসল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:২৩
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পানি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে খালিয়াজুরীর কয়েকটি বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় সহস্রাধিক একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলায় ফসল রক্ষার ঝুকিপূর্ণ অন্যান্য বাঁধগুলো শক্তভাবে দ্রুত মেরামত না করা হলে আরো প্রায় ৫০ হাজার একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বাঁধ রক্ষার জন্য কয়েক দিন ধরে খালিয়াজুরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসী সমবেত হচ্ছেন। 
 
প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ক’দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে বিগত দু’দিনে খালিয়াজুরী সদরের চুনাই বাঁধ, গাজিপুর ইউনিয়নের ধৈলং বাঁধ, মাকলাইন বাঁধ, হরিপুর বাঁধ, নালুয়ার বাঁধ, মেন্দিপুর ইউনিয়নের আশাখালি বাঁধ, নাওটানা স্লুইস গেইট বাঁধ, চাকুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাঁবদর বাঁধ ভেঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাওরের প্রায় সহস্রাধিক একর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি প্রবাহের বাড়তি আরো চাপ থাকলে ও উপজেলার ঝুকিপূর্ণ বাঁধগুলো ৩/৪ দিনের মধ্যে মেরামত না করা হলে খালিয়াজুরীর প্রায় ৫০ হাজার একর জমির ফসলই পানিতে তলিয়ে যাবে। খালিয়াজুরীর ঝুকিপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ফসল রক্ষা বাঁধসমূহের মধ্যে রয়েছে ঝালখালির বাঁধ, কীর্তনখলা বাঁধ, পাইয়া বাঁধ, আশালিয়াকুড়ির বাঁধ, চতিয়া বাঁধ, মায়ারচর বাঁধ, গঙ্গাবদর বাঁধ, মালিহাতা বাঁধ, চুনাই বাঁধ, নামা চুনাই বাঁধ, গুরস্তানের নামা বাঁধ ও বয়রা বাঁধ। ওই সমস্ত বাঁধের কয়েকটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মাটি ভরাটের মাধ্যমে সংস্কার প্রকল্প কাজ হাতে নিলেও কয়েকটি বাঁধ তাদের প্রকল্পের আওতায় নেয়নি। আবার, যেসব স্থানে তারা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেসব প্রকল্পেও চলছে লুটপাট আর দুর্নীতি। 
 
নেত্রকোনা জেলা পরিষদ সদস্য ও খালিয়াজুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম আবু ইছহাক জানান, এ উপজেলায় পাউবো’র কাজে এবছর বাঁধে বরাদ্দের চার ভাগের এক ভাগ কাজও তারা করেননি। সময় মতো ও সঠিক নিয়মে তারা কাজ না করায় এখানকার সবগুলো বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এখন স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে বাঁধগুলো ঠিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। খালিয়াজুরী কৃষক লীগ সভাপতি তপন বাঙালি ও সিপিবি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহন দেব রায় জানান, পাউবো যদি এখানে বরাদ্দের শতভাগ কাজ নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে শুরু ও ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করতো তাহলে হাজার হাজার একর ফসল আজ হুমকির মধ্যে পড়ত না। 
 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী বলেন, এখানে কোটি কোটি টাকার বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে যাবার এমন মুহূর্তটির মধ্যে পাউবো’র কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। এখন প্রয়োজন ছিল উপস্থিত থেকে তাদের প্রকল্প কমিটি এবং ঠিকাদারদের দিয়ে বাঁধে ভালভাবে কাজ করানো।
 
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ জানান, এ উপজেলায় পাউবো কোথায়, কত টাকার কাজ, কিভাবে করছেন, তিনি তা জানেন না। তিনি আরো জানান, তদারকির জন্য নেত্রকোনা পাউবো’র কাছে এসব তথ্য বারবার চাইলেও তারা তা দেননি। তাছাড়া, প্রকল্প স্থানে তারা কাজের বিবরণ, কাজের মেয়দকাল ও বরাদ্দের পরিমাণ জানিয়ে সাইন বোর্ড ব্যবহার না করে কাজের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে দিচ্ছেন শুভঙ্করের ফাঁকি।  
 
নেত্রকোনা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, উপজেলায় পাউবো’র হাতে নেয়া সবগুলো বাঁধের কাজ সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি।