মালয়েশিয়ায় ভাল বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের একটি সিন্ডিকেট চক্র নানা প্রলোভনে দেশের সহজ-সরল যুবকদের নিয়ে আটক রেখে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে র্যাব-৬-এর একটি টিম মুক্তিপণ আদায়কারী এই সিন্ডিকেট চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার দুপুরে নগরীর লবণচরাস্থ র্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. আহসান হাবিব খান (৪৩), মো. রুহুল আমিন খান (৪২) ও বিকাশ এজেন্ট মো. ইমরুল ইসলাম টিটু (২৬)।
র্যাব-৬-এর পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের আজগর সরদারের ছেলে ইমরান সরদার, একই গ্রামের ফয়জুল শিকদারের ছেলে মো. দিলু শিকদার এবং আলী মিয়া সরদারের ছেলে রাসেল সরদারসহ চারজন একই এলাকার ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. শাইজিদ খানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ভাল বেতনে চাকরিতে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পান। তার ভাই নূরুল আমিন খান ও বায়জিদ খান দীর্ঘ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় তাদের কাছে মাধ্যমটি বিশ্বস্ত বলে মনে হয়। সে অনুযায়ী প্রত্যেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে দেয়ার পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়। সেখানে যাওয়ার সময় বিমানে এ রকম আরো ছয়জনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। মোট ১০ জন কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে মালয়েশিয়ায় প্রেরণকারী শাইজিদ খানের ভাই ও অন্যান্যরা তাদের গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে একটি ১২তলা ভবনে আটকে রেখে তাদের ১০ জনের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের নম্বর নিয়ে বাংলাদেশে তাদের স্বজনদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে স্বজনদের জিম্মিদের কান্নাকাটি ও আত্মচিৎকার শুনিয়ে বিকাশ এবং ডাচবাংলা ব্যাংকের রকেট নম্বর দিয়ে ৪/৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দিতে বলা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এভাবে যারা বিকাশ এবং রকেট নম্বরের মাধ্যমে মোট ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৫শ’টাকা পরিশোধ করেছেন- এমন আটজনকে জিম্মিদশা থেকে বাইরে এনে পাসপোর্ট-ভিসা রেখে সড়কে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানে তারা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের পর গত ১৫ মার্চ তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু মুক্তিপণ না দেয়ায় বাকি দুজনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো জানা জায়নি।
র্যাব-৬’র পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আট যুবক দেশে ফিরে র্যাব সদর দপ্তরে অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। মোবাইল নম্বর ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন হওয়া সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিকাশ এজেন্ট মো. ইমরুল ইসলাম টিটুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তার বিকাশ নম্বরে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মেলায় তাকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মো. আহসান হাবিব খান ও মো. রুহুল আমিন খানকে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।
