কক্সবাজারের টেকনাফে একটি ব্রিজের অভাবে পাঁচ হাজার মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আগামী বর্ষার আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা না হলে শত শত শিক্ষার্থীর স্কুল-মাদ্রাসা যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী কোনারপাড়া এলাকাটি সড়ক-উপসড়কের সাথে সংযুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণ চলাচল করছেন খাল এবং বিল দিয়ে। খাল-বিল পাড়ি দিয়ে ঐ এলাকার মানুষ সারাবছরই দুঃখ এবং কষ্ট নিয়ে চলাচল করছেন। সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় অবহেলিত কোনারপাড়ার মানুষের দুঃখের শেষ নেই। সড়ক এবং ব্রিজের অভাবে বর্ষা আসলে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। বর্ষায় খালভর্তি পানি পার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অভিভাবকরা অনেক সময় ভয়ে ছেলে/মেয়েদের স্কুলে যেতে দেন না।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পালাবদল হলেও এখানকার মানুষের ভাগ্যের বদল হয়নি। ছাত্র/ছাত্রীসহ সর্বসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে মেইন রোডের সাথে একটি সংযোগ সড়ক এবং চৌধুরীপাড়া খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মিত হলে পাঁচ হাজারের অধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। খালে ব্রিজ এবং এলাকাটি সংযোগ সড়কের আওতায় আসলে এখানকার মানুষের জীবনমান অনেকটা বদলে যাবে। হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোমানা আক্তার, শেফা মনি ও আখরাম খান রিপন জানান, পানির সাথে যুদ্ধ করে খাল-বিল পাড়ি দিয়ে লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। একই স্কুলের ছাত্র ২০১৮ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসাইন ও নুরুল আবছার জানান, খাল পার হয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে অনেক সময় বই, খাতা-কলম ভিজে যায়। বর্ষার আগে ব্রিজটি নির্মিত না হলে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় এর প্রভাব পড়বে।
অভিভাবক নাছিরউদ্দিন জানান, রাস্তার অভাবে বছরের পর বছর আমরা খাল এবং বিল পাড়ি দিয়ে চলাচল করছি। বর্ষা মৌসুমে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ব্রিজ এবং সংযোগ সড়কের কারণে আমরা উপজেলায় অন্যদের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবক ও শিশু শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার স্বার্থে বর্ষার আগেই খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য সাংসদ আব্দুর রহমান বদিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
