শর্ত সাপেক্ষে মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয় ও জমি সরকার জনস্বার্থে নিয়ে নিতে পারবে। তবে যেসব স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হবে সেসব স্থাপনা সরকারকে নিজ খরচে তৈরি করে দিতে হবে। এমন বিধান রেখে তৈরি করা ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭’- এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। আইনের খসড়ায় ধর্মীয় উপাসনালয় বলতে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাকে বোঝানো হয়েছে। এ ছাড়া কবরস্থান, মঠ ও শ্মশানের জমি অধিগ্রহণ করার সুযোগও রয়েছে। জনস্বার্থে একান্ত অপরিহার্য হলে ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থে স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণ করার শর্তে কেবল ওই সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা যাবে।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন ধরনের জনস্বার্থমূলক স্থাপনা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেক সময় এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অন্তরায় হয়ে যায়। দেখা যায়, যেখানে বা যেখান থেকে উন্নয়ন করা হবে তার কোথাও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে। ফলে অনেক সময় ওই উন্নয়ন আর করা সম্ভব হয় না বা আধাআধি করে রাখা হয়, যা জনগণের কোনো উপকারে আসে না। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়গুলোর মীমাংসা করে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার দৃষ্টান্তও আছে। কিন্তু এবারই প্রথম এটি আইনের অধীনে আনা হল।
উল্লেখ্য, এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনামলে জারি করা ১৯৮২ সালের এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাংলায় রূপান্তর করে এই আইন করা হচ্ছে। তবে সামরিক সরকারের অধ্যাদেশে ধর্মীয় উপাসনালয়, কবর বা শ্মশানের জমি অধিগ্রহণের সুযোগ ছিল না। সরকারিভাবে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ জমির দামের দেড়গুণ থেকে বাড়িয়ে তিনগুণ এবং বেসরকারিভাবে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ চারগুণ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে এই আইনে।
জমির যে বাজারদর হবে তার উপর অতিরিক্ত ২০০ ভাগ যুক্ত করে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির দাম দিতে হবে। যেমন কোনো জমির মূল্য যদি এক কোটি টাকা হয় তাহলে আরও দুই কোটি টাকা যুক্ত হয়ে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ (সরকারি অধিগ্রহণে) দিতে হবে। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানও জনস্বার্থে ‘কখনও কখনও’ ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারবে। কোথাও স্কুল হবে, কোনো একটা প্রতিষ্ঠান হবে, সেজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ বেশি দিতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় ১২ মাসের জমি কেনাবেচার দলিলের গড় বিবেচনায় নিয়ে জমির দাম নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, আগে অতিরিক্ত জেলা বা দায়রা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আরবিট্রেটার নিয়োগ দেওয়া হতো। প্রস্তাবিত আইনে যুগ্ম- জেলা জজ বা সাব-জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে আপিলে থাকবেন জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
চলচ্চিত্রে ধর্ষণের দৃশ্য নিষিদ্ধ
চলচ্চিত্রে সরাসরি কোনো ধর্ষণের দৃশ্য দেখানো নিষিদ্ধ করে অপরাধীদের কার্যকলাপের কৌশল প্রদর্শন যা অপরাধের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন ও মাত্রা আনতে সহায়ক হতে পারে এমন দৃশ্য পরিহার করতে হবে। এমন বিধান যুক্ত করে জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা-২০১৭’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা সমুন্নত রাখতে হবে। কোনোভাবেই রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী বক্তব্য প্রচার করা যাবে না কিংবা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করা যাবে না। চলচ্চিত্রে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার সুষ্ঠু প্রতিফলন এবং এর সঙ্গে জনগণের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন ও সাংস্কৃতিক ধারাকে দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার সুষ্ঠু প্রতিফলন থাকতে হবে। সকল ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং ধর্মীয় সহিংসতা রোধে জনগণকে উজ্জীবিত করতে হবে। এ ছাড়া সংলাপে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা পরিহার করতে হবে। চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে । এ কমিটি কোনো চলচ্চিত্র আমদানি বা রফতানির সুপারিশ করবে। তথ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের জাতীয় চলচ্চিত্র বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি থাকবে। চলচ্চিত্রের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। প্রেক্ষাগৃহগুলো বাণিজ্যিক ভবন হয়ে যাচ্ছে, দোকানপাট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ৬৪ জেলায় ৬৪টি সরকারি তথ্য ভবন হবে। এ ভবনে একটি করে সিনেপ্লেক্স থাকবে। এ ছাড়া সরকারি অনুদান দিয়েও বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল সিনেপ্লেক্স করা হবে।
ঢাকা- খুলনা- কলকাতা রুটে বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে
ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। তাই ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমানে ঢাকা- কলকাতা রুটে বেনাপোল হয়ে গাড়ি চলাচল করে। এখন ঢাকা-পাটুরিয়া যশোর গিয়ে বাস বেনাপোল যায়। নতুন রুট অনুযায়ী বাস মাওয়া হয়ে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, রূপসা নদী পার হয়ে খুলনা হয়ে যশোর যাবে। সে ক্ষেত্রে রাস্তার দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার কমবে। চুক্তির পরে রুট চালু হবে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এটা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে, তখন দুই দেশ থেকে দুটো গাড়ি রওনা হয়ে যাবে। একটা ঢাকা থেকে, আরেকটা কলকাতা থেকে।
২৩ জুলাই ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’
২৩ জুলাইকে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ঘোষণা এবং দিবসটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রের খ-ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আর্থিক খরচের ওপর দিবসের শ্রেণি করা হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খ- শ্রেণিতে সাধারণ সরকারি উত্স থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই গ্রুপে এটাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/রাফাত
