বিডিআর বিদ্রোহের ভিডিওচিত্র হাইকোর্টে প্রদর্শিত হয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এই ভিডিও তিন কার্যদিবস ধরে আদালতে প্রদর্শন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এই ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে নিম্ন আদালতে এই মামলায় যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং খালঅসপ্রাপ্ত সকল আসামির বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে এই আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আপিল দায়েরের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল।
পিলখানা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ওই বছরের জানুয়ারি মাসে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার। ইতিমধ্যে ৩৬৪ কার্যদিবসব্যাপী ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক পাঠ করা হয়েছে ১২৪ কার্যদিবস। বাকি ২৪০ কার্যদিবস রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করে। এরপর হাইকোর্ট ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতবি করেন। এদিকে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে ২০০৯ সালে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত সচিত্র (ভিডিও) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনের সিডি এই মামলার সাক্ষ্য হিসাবে বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানিতে ওইসব ঘটনার ভিডিও সিডি হাইকোর্টে প্রদর্শন করা হলো। প্রদর্শনের সময় যখন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ উদ্ধার এবং তাদের স্বজনদের কান্নার দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল তখন আদালত কক্ষে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।
ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শনের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ টিপু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো তখন আমরা সেই ঘটনার নৃশংসতা ও নির্মমতা দেখেছি। এরকম নৃশংসতা দেখলাম পিলখানার ঘটনায়। যেভাবে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
