সংসদ সদস্য হলে অনেক সুযোগ-সুবিধা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ’ আসনের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী এমপি হওয়ার জন্য এতো বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এমন অতিউত্সাহ এবং আগ্রহ রীতিমত নজিরবিহীন। সংসদ সদস্য হতে পারলে কেবল ক্ষমতা, নাম-যশ-খ্যাতিই নয় অর্থ-বিত্ত প্রাচুর্যেরও যোগ বাড়ে। তাইতো দলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করেছেন ধানের শীষ থেকে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আগামীকাল মঙ্গলবার শপথ নিবেন সিলেট-২ আসনে বিএনপির সমর্থনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান। বিএনপির অপর ৬ জন সংসদ সদস্যের কেউ কেউ শপথ গ্রহণের পক্ষে তদবির করছেন। তারা নির্বাচিত এমপি হিসাবে সুযোগ- সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত থাকতে চান না।

জানা গেছে, একজন এমপি নানাবিধ আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ মে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার; মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যদের সম্মানি (বেতন-ভাতা) দ্বিগুণ বৃদ্ধির তিনটি পৃথক বিল সংসদে পাস হয়। সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উত্থাপিত ‘মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেম্যুনারেশন অ্যান্ড এলাউন্সেস) (সংশোধনী) বিল, ২০১৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এতে দেখা যায়, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকার ভাতা প্রতিমাসে ১২,৫০০ টাকা। সম্মানি ভাতা প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা, শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা, মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা, নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা, প্রতিমাসে লন্ড্রি ভাতা ১,৫০০ টাকা, মাসিক ক্রোকারিজ, টয়লেট্রিজ কেনার জন্য ভাতা ৬ হাজার টাকা, দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল বার্ষিক পাঁচ লাখ টাকা, বাসায় টেলিফোন ভাতা বাবদ প্রতিমাসে ৭,৮০০ টাকা, সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেল সুবিধা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৫ হাজার টাকা ও  দৈনিক ভাতা ৭৫০ টাকা। শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাটা অনেকের কাছে বেশি লোভনীয়।

এছাড়া একজন সংসদ সদস্য প্রতিবছর চার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ পাবেন। এই থোক বরাদ্দের পরিমাণ আগে ছিল দুই কোটি টাকা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সংসদ সদস্য থোক বরাদ্দের টাকা তাঁর নিজের পছন্দ মতো উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করতে পারেন। তিনি কোন প্রকল্পে এ টাকা খরচ করবেন সেটি সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ার। নানা প্রকল্পে প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা অগ্রাধিকার পান। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা, বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনীসহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প আছে।

এসব প্রকল্প থেকে কারা সুবিধা পাবেন সেটিও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এছাড়া এলাকার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকে।

এদিকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট সংসদ সদস্যদের অবসর ভাতার প্রস্তাব তোলা হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সংসদ সদস্যরাতো অবসরে যান না। অবসরে গেলে অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতো। তবে সম্প্রতি আবারো এই প্রস্তাবের পক্ষে মতামত জোরালো হচ্ছে। তারা বলছেন, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে সংসদ সদস্যদের অবসরভাতা সুবিধা রয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে।

কাল শপথ নিচ্ছেন মোকাব্বির খান

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে কাল মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় শপথ নিচ্ছেন মোকাব্বির খান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে তার কার্যালয়ে মোকাব্বির খানকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের জনসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচিত মোকাব্বির খান দাবি করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি সংসদে যাচ্ছেন। গণফোরামের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ও আমার দল গণফোরাম আগামী ২ বা ৩ এপ্রিল শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেছেন, দলীয় ফোরামে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের আরেক সদস্য সুলতান মনসুর শপথ নিলে তাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। মোকাব্বির খানকেও বহিষ্কার করা হবে বলে গণফোরাম নেতারা জানান। মোকাব্বির বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তিনি শপথ নিচ্ছেন।