ছাতকে হাওরের ফসল রক্ষায় পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৭, ০৪:২৫

ছাতকে পাম্প দিয়ে হাওরের পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছে কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার মন্ডলপুর চাকলকুঁড়ি হাওর এলাকায় ১২টি পাওয়ার পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে বোরো ফসল রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও স্বেচ্ছায় হাওর রক্ষা বাঁধ সংস্কার করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

হাওরে ধানের পরিবর্তে এখন শুধুই অকাল বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে। ফসলহারা কিষান-কিষানীদের তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই। ফসলহারা কৃষকদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাওরপাড়সহ এখানের গ্রামীণ জনপদ।

 কৃষকের অভিযোগ, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে চরম দুর্নীতির কারণে টানা দু’বছর ধরে বোরো ফসল গোলায় তুলতে পারেনি তারা। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের নিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের নিমিত্তে গঠিত পিআইসি ছিল সম্পূর্ণ অকার্যকর। কৃষকরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ছাতক উপজেলার তেরাবিল, জল­ার হাওর, গুয়া-পাকুরা, পেকুয়া, ঝাওয়ার হাওর, দেখার হাওর, নাইন্দার হাওর, ডেকার হাওর, চাউলীর হাওর, ফাটার হাওর, চাতলির হাওর, রাঙ্গা-ডিঙ্গা হাওর, ইন্দুরার হাওর, সুরিগাঁও হাওর, ডিমকা, বাড়ুকা, গয়ার, রুকুর হাওরসহ উপজেলার ৬৪টি হাওরের বোরো ফসল এখন পানির নীচে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪ হাজার ২শ’ ২৫ হেক্টর বোরো জমির ফসলের মধ্যে ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমির বোরো ইতিমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উঁচু জমির বাকি অংশটুকুও রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্ষা মৌসুমের শাক-সবজির বাগান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম বদরুল হক জানান, বৃষ্টির পানিতে ও জলাবদ্ধতায় এখানের বোরো ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। সর্ব শেষ তথ্য অনুযায়ী এখানের শতকরা ৭৫ ভাগ বোরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ফসলটুকুও রয়েছে হুমকির মুখে।

ইত্তেফাক/নূহু