শীতলক্ষ্যা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নৌযান চালকেরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেশি টাকার লোভে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রী পারাপার করছেন। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, সেন্ট্রাল ঘাট থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ঘাটে ট্রলার ও নৌকার মাধ্যমে যাত্রীরা নদী পারাপার হয়ে থাকে। তবে এসব যানের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তুলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চালকরা নদী পারাপার করে থাকেন। আর যাত্রীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে নৌযান চালকদের কাছে অনেক সময় লাঞ্ছিত হতে হয়। ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়তি টাকাও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এভাবে নৌযান চলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সেই সঙ্গে বাড়ছে লাশের মিছিল। তবুও কারো টনক নড়ছে না।
এ দিকে, প্রতিটি নৌকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ১০-১২ জন যাত্রী যাতায়াতের কথা থাকলেও মাঝিরা বাড়তি টাকা আয়ের লক্ষ্যে এক একটি নৌকায় ১০-২০ জন করে যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করেন। নৌকায় সমস্যার কারণে যাত্রীরা ট্রলারগুলোতে ভিড় করেন। অতিরিক্ত যাত্রীতে বোঝাই হয়ে ওঠে ট্রলার। যাত্রীর তুলনায় ট্রলারের সংখ্যা অনেক কম থাকায় ঝুঁকির পরিমাণও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেন্ট্রাল ঘাটে সর্বমোট ১০টি ট্রলার চলাচলের কথা থাকলেও গড়ে মাত্র ৫-৭টি ট্রলার চলাচল করে থাকে। তার উপরে রাত হতেই ট্রলার সার্ভিসগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সুযোগে মাঝিরা নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নেয়, সেই সঙ্গে আদায় করে বাড়তি ভাড়া।
জানা গেছে, আগে ভোর থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রলার সেন্ট্রাল ঘাটে চলাচল করতো। কিন্তু সেই সার্ভিস সন্ধ্যার পর থেকে কমে ১০টার দিকে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তখন নৌকার মাঝিরা ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন। ১০-১২ জন যাত্রীর পরিবর্তে ঝুঁকি নিয়ে ২০ জনের মতো যাত্রী নৌকায় তোলে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা ও ট্রলার চলাচল ছাড়াও রয়েছে বাল্কহেডসহ অন্যান্য নৌযানের বেপরোয়া চলাচলের দৌরাত্ম্য। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও একজন মারা যান। এভাবে প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন অনেকে।
অনেক যাত্রী জানান, সেন্ট্রাল ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাট ও টানবাজার ঘাট দিয়ে সর্বাধিক যাত্রী করে থাকে এবং ওইসব এলাকাতেই দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। তারা বলেন, ট্রলার সার্ভিসগুলো নৌকার মাঝিদের সাথে সিন্ডিকেট করে আগেই চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। তারা বাধ্য হয়ে নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে থাকেন।
