অসহায়দের পাশে বিদেশি নাগরিক কুক

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৭, ২০:২৭
 
'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য' এই ব্রত নিয়ে সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন এক বিদেশি নাগরিক। নিজ দেশের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে এসে প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে সমাজের অসহায়, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য নিজের টাকায় প্রতিষ্ঠা করে দিচ্ছেন স্কুল-মাদ্রাসা। আর গরীবদের জন্য ব্যবস্থা করছেন বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট।
 
সমাজ সেবী মি. লিম হিম কুক টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে তার নিজের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শনিবার উপজেলার পাঁচ নম্বর বানাইল ইউনিয়নের ভুসুণ্ডি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কুকের সহযোগিতায় সমাজের অনাথ ও অসহায় শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছে স্কুল-মাদ্রাসা ও এতিম খানা।
 
ভুসুণ্ডি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) জানান, প্রায় ২০বছর আগে তিনি সিঙ্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করার জন্য গিয়ে ছিলেন। সেখানে তিনি কুকের কারখানায় কাজ পান। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে কুকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীঘ দিন তিনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর মি. কুকের বিশ্বস্ত হয়ে উঠেন। জাহাঙ্গীর চলে আসে দেশের বাড়িতে। দীর্ঘ দিন পর কুক বাংলাদেশে এসে জাহাঙ্গীরের খোঁজ খবর নেন এবং মির্জাপুরে এসে দেখা করেন।
 
বাংলাদেশে এসে মি. কুক অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ জন্য তিনি জাহাঙ্গীরের সহযোগিতা চান। মির্জাপুরের মাঝালিয়া, কুড়ালিয়াপাড়া, ভাবখণ্ড, পানিশাইল, পাইকপাড়া ও ভুসুণ্ডি গ্রামে প্রথমে দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে পানি সরবরাহের জন্য নলকূপ স্থাপন, শীতে গরম কাপড় সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবস্থাসহ খাবার স্যালাইন, ঔষধ, চাল-ডাল, চিনিসহ নানা সামগ্রী তুলে দেন।
 
এ ব্যাপারে কুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের অসহায়, নিরীহ ও সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো।' বাংলাদেশের পাশাপাশি তিনি মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাউস, ভারত ও আফ্রিকাতে কাজ করে যাচ্ছেন। সারা জীবন তিনি অসহায়দের পাশে কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, কুককে মির্জাপুরের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে