উচ্চ আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার রাজধানীর হাজারীবাগের সবগুলো ট্যানারি কারখানার বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সকাল ১০টা থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর সব ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু করে। অভিযান শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৫টায়।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মে. রইছউল আলম মণ্ডল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শেষ করেছি। আজ রবিবার উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযানে ১২৩টি টেলিফোন সংযোগ, ১৯৩টি পানির লাইন, ২২৪টি বিদ্যুত্ সংযোগ ও ৫৪টি তিতাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল হাজারীবাগের বিভিন্ন ট্যানারি ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুত্-গ্যাস ও পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়ায় বেকার বসে ছিল শ্রমিকরা। বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় রাতে ট্যানারিগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ১৫৪টি ট্যানারি কারখানার মধ্যে ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে শিফট করা হয়েছে। বাকিগুলো শিফটিংয়ের কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করে দিলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ে যাবেন ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এ বছর ১২শ কোটি টাকা রপ্তানির অর্ডার নিয়েছি আমরা। এভাবে সময় না দিয়ে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করে দিলে এই বায়ারগুলো কোথায় পাবো। আর তিন মাস সময় দিলে বিশাল ক্ষতি থেকে আমরা বেঁচে যেতাম।
উল্লেখ্য, হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো বন্ধ করে সেখানকার গ্যাস, বিদ্যুত্সহ অন্যান্য সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাস আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার।
২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তর না হওয়ায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরশেদ আদালত অবমাননার মামলা করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
