ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগে তালা ও পাইকগাছার হাজারো মানুষ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৭, ১০:৫২

নদীর ওপর অর্ধেক ব্রিজ, আর বাকি অর্ধেক বাঁশ ও কাঠের সাঁকো। পারাপারে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় প্রতিদিন, তবুও উপায় নেই একটা ব্রিজের অভাবে এমনই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয় সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হাজার-হাজার মানুষ।

জানা যায়, তালা উপজেলার খেশরা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদটি নব্বইয়ের দশকে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে খেশরা ইউনিয়নের তত্কালীন চেয়ারম্যান এমএম ফজলুল হকের উদ্যোগে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

সমপ্রতি সরকারের কপোতাক্ষ খনন ও পাখিমারা টিআরএম প্রকল্পের আওতায় এটি পুনঃখনন করা হয়। এরপর পানির তোড়ে ব্রিজের পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড পানির স্রোত ও জোয়ারভাটার প্রভাবে ব্রিজটির একাংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে জনসাধারণের দুর্ভোগ শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ব্রিজটির একাংশ ভেঙে যাওয়ার পর এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশ-কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে কোনোরকম চলাচল উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, কিছুদিন আগে ভেসে যায় বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি। এ সময় গ্রামবাসীর সহায়তায় ব্রিজটি কোনোমতে আবারো চলাচল উপযোগী করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের অভাবে এ পথে যাতায়াতকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত কাটিপাড়া, বাঁকাবাজার, পাইকগাছা, আশাশুনি ও সাতক্ষীরায় যেতে হয় এবং কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া ব্রিজ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্যান্য যানবাহন আসতে পারে না। যে কারণে অসুস্থ রোগীকে সময়মত সাতক্ষীরা কিংবা পাইকগাছা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চেয়ে সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু