গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা থেকে ছিনতাই করা বাস দিয়ে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এনে যাত্রী উঠিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ডাকাতদের হামলায় বাসের চালক-হেলপারসহ কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এ সময় চলন্তবাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
আহত বাস চালক ফজলুল হক (৫৫) ও হেলপার আ. কুদ্দুসকে (৩৫) মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাসচালক ফজলুল হক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ-ঢাকা রুটের এস.আই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ভোররাত ৪টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর চান্দরা চৌরাস্তা এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০-১২ জনের ডাকাতদল। ডাকাতরা আমাকে ও হেলপার কুদ্দুসকে মারপিট করে হাত-পা মুখ বেঁধে বাসের পিছনের সিটে বেঁধে রাখে। ডাকাতদলের লোকজন বাসটি চালিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দিকে চলে যায়। ডাকাতরা ভোরের দিকে ওই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীদের বাসে উঠিয়ে টাকা-পয়সা লুটে নিয়ে মারধর করে নামিয়ে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, বাসটি রিজার্ভ ট্রিপ শেষে সিলেটের জাফলং থেকে ঘটনার রাতে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় বাসটি ফেলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এদিকে বাসের হেলপার আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি চলন্ত বাসে ডাকাতরা এক নারীকে নির্যাতন করার চিৎকারে শব্দ শুনেছেন। পরে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার স্বামী চলে গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই দম্পতি মানিকগঞ্জ যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠে। নির্যাতিত নারী গাজীপুর মহিলা আনসার ব্যাটেলিয়ান-২ কর্মরত।
মানিকগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএম ও ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বাসচালক ফজলুল। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
এদিকে বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইয়ামীন উ-দৌল্লা বাসের চালক ও হেলাপারের উদ্বৃতি দিয়ে জানান, ওই বাসে এক নারী যাত্রী ছিলেন। তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারে।
ঘিওর থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
