কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের হারিনা গ্রামের মল্লিকা বেগম (৭৫)-এর আশ্রয়ের একমাত্র ঠিকানাটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়। গত ২৫ মার্চ বয়ে যাওয়া ঝড় মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে যায় তার মাথা গুঁজার ঠাঁই কুঁড়ে ঘরটি। ছোট্ট সেই বিধ্বস্ত কুঁড়ে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তার স্বগতোক্তি ছিল—‘গড্ডা না বাইঙ্গা আমারে লইয়া যাইতো তাইলে বাইচ্চা যাইতাম’। এখন তার মাথা গুঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। খোলা আকাশ বা অন্যের বাড়ির বারান্দায় রাত্রি যাপন করে অনাহারে-অর্ধাহারে চলছে তার দিন।
শনিবার সরেজমিনে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে ঝড়ে তার কুঁড়ে ঘরটি পড়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ বা সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পায়নি মল্লিকা বেগম। তার নামে বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কোনো কার্ডও নেই। এই বয়সে কাজ করে উপার্জন করার শারীরিক সামর্থ্যও নেই তার। অভাবের সংসারে একমাত্র ছেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকে আলাদা।
দিনমজুর ছেলে যা আয় রোজগার করে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তার সংসারও চলে অতিকষ্টে। জীবনের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা মল্লিকা বেগম। অল্প বয়সেই বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গনের গাঁও গ্রামের শহর আলীর সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীকে হারান। এরই মধ্যে এক ছেলে সন্তান জন্ম হয়। স্বামীহারা মল্লিকার ঠাঁয় হয়নি স্বামীর বাড়িতে। ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন পিতার বাড়িতে। সেখানেই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে দিনাতিপাত করে আসছেন তিনি। শুধু মল্লিকা বেগমই নয়। গত কয়েক দিনের ঝড়ে হারিনা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ-পালা।
এ বিষয়ে আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
