খালিয়াজুরীর শতভাগ ফসল নষ্ট, কৃষক সর্বস্বান্ত

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:০৬
 
কয়েক দিনের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরী উপজেলার শতভাগ বোরো ফসলই নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে এখানে হাজার হাজার কৃষক পরিবারে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
উপজেলায় ২০ হাজার ৭০ হেক্টর বোরো জমির সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে প্রায় ৭৮ হাজার মেট্রিক টন ধান পাওয়া যেত। এর বর্তমান বাজার মূল্য ছিল প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা।
 
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য দেয়ার পর বলেন, ধান উৎপাদনে আউশ, আমন ও বোরো নামে তিনটি মৌসুম থাকলেও হাওর পাড়ের এ উপজেলা অধিকতর নিচু হওয়ায় এখানে শুধু মাত্র বোরো ফসল ছাড়া অন্য দু’টি ফসল বপন করা সম্ভব হয় না। গত বছরের আগাম বন্যায় কিছুটা মার খাওয়া কৃষক এবার ধার-দেনা করে বোরো ফসল লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের পানিতে এবারো তাদের ফসল তলিয়ে গেছে। অপুষ্ট অবস্থায় ধান তলিয়ে যাওযায় তা পানির নীচে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দু’এক দিনের মধ্যে পানি সরে যাবার সম্ভাবনা না থাকায় সব ধানই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
 
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখানে ঠিক মতো কাজ করলে কৃষকের এত বড় সর্বনাশ হতো না। খালিয়াজুরী সদরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কিষ্টুপুরের বাঁধসহ টানা চৈতা ও নামা চৈতার বাঁধগুলোতে বরাদ্দের সব টাকার কাজ করলে সহজে তা ভাঙ্গত না এবং হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসল ডুবত না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুধু মাত্র দায় সারানোর জন্য বাঁধে সামান্য কিছু মাটি ফেলেছিল।
 
খালিয়াজুরী সদরের কুড়িয়াহাটি গ্রামের কৃষক মনির হোসেন জানান, খাইল্লাজুরীর কীর্তনখোলা বাঁধে  চিক্কণ কইরা আইলের মত মাডি না ফালাইয়া শক্ত কইরা বান (বাঁধ) দিলে বানডা তাড়াতাড়ি না ভাইঙ্গা আরও কয়ডা দিল থাকত। এই সুযোগে আমার ৪৫একরসহ কীর্তনখোলা হাওড়ের শত শত একর ফসলের কাচা ধান কাইট্যা আইন্যা গরুরে খাওন দেওন যাইত। বান ভাইঙ্গা হাওড়ে পানি ডোহার কারণে এলাকার কেউ নিজের খাওনত তুলতে পারছেই না, অনেক চেষ্টা কইরা গরুর খাওনও কেউ আনতে পারছে না।
 
এই বাঁধ ভাঙ্গার জন্য কৃষক ও স্থানীয় মানুষ দায়ী করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো)। তারা জানায়, দুর্নীতি করে বাঁধ ঠিক মত না দেয়ায় তা ভেঙ্গে গেছে। বাঁধ আরো মোটা করে দেয়ার কথা থাকলেও তারা সেটি করেনি।
 
এদিকে কৃষক ও স্থানীয়দের এই অভিযোগ অস্বীকার করে নেত্রকোনা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, এখানকার কাজে পাউবো কোন অনিয়ম, দুর্নীতি করেনি।
 
IMG0
 
স্থানীয় এমপি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেবেকা মমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে ইত্তেফাককে বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে পাউবো সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঊর্ধ্বতন মহলে কথা বলবেন। এদিকে, ফসলহারাদের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
 
ইউএনও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে সহায়তার জন্য এখানে ইতিমধ্যে ২৮ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে।
 
ইত্তেফাক/রাফাত