বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পাহাড় যেন উৎসবে মাতোয়ারা। পাহাড়িদের প্রধান সামাজিক উৎসবে প্রতিটি এলাকা সেজেছে বর্ণিলরূপে।
অন্যান্য বছরের মত এবারও বেশ আনন্দমুখর পরিবেশে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ পালনের জন্য নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলো তাদের ধর্মীয় আদর্শে এ উৎসব পালন করবে। এ উপলক্ষে গতকাল ১২ এপ্রিল বুধবার সকাল দশটায় চাকমা সম্প্রদায় কাউখালীতে আয়োজন করে বর্ণাঢ্য র্যালির।
পার্বত্য জেলায় ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকজনের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় কাউখালীর পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় র্যালি। বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব পাইচামং মারমা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এতে অংশগ্রহণ করেন, ভাইস চেয়ারম্যান মংসুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা, চিংকিউ চৌধুরী, রাজেন্দ্র তংচংগ্যা, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদিশ চাকমা, ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ধন কুমার চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান থুইমং মারমা, ইউপিডিএফ কাউখালী ইউনিটের সংগঠক পুলক চাকমা প্রমুখ।
বাংলা নববর্ষকে পাহাড়ের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করে থাকে। নিয়মানুযায়ী ১২ ও ১৩ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায় পালন করবে বিঝু। ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায় পালন করবে সাংগ্রাই অনুষ্ঠান।
চৈত্রের শেষ দিনকে মূল বিঝু হিসেবে পালন করা হয়। এটাই হচ্ছে মূল উৎসব। এই দিনে সবার ঘরে অন্তত পাঁচ পদের তরিতরকারি মিলিয়ে বিশেষ ধরণের 'পাঁচন' রান্না করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পিঠা, তিলের নাড়–, বিন্নি ধানের খৈ ও মিষ্টি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি অতিথিদের মদও পরিবেশন করা হয়। চাকমা যুবতী মেয়েরা তাদের কোমরে রাঙ্গা খাদি এদিন বুকে জড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। তাছাড়া তরুণেরা এক সঙ্গে ঘিলা, বউচি প্রভৃতি খেলায় মেতে উঠে।
