যশোরে কলেজ ছাত্র হত্যা: পাঁচ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:৩২
 
যশোরের কেশবপুর উপজেলার কলেজ ছাত্র মো. বোরহান ওরফে মারুফ (১৮) হত্যা মামলায় আপন পাঁচভাইকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো দু'বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম. এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরউদ্দিন ধাবক এবং তার সহোদর দবির উদ্দিন ধাবক, কবিরউদ্দিন ধাবক, মহিরউদ্দিন ধাবক ও কহিরউদ্দিন ধাবক। এর মধ্যে কবিরউদ্দিন ধাবক পলাতক রয়েছেন।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, যশোরের কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে মো. শওকত গাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মৃত জয়নাল ধাবকের ছেলেদের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর শওকত গাজীর ছেলে রায়হান উদ্দিন গাজীকে (২৪) ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ খবর পেয়ে তার চাচাতো ভাই মো. বোরহান ওরফে মারুফসহ স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে যায়। এ সময় তারা মারুফকে পিটিয়ে জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত মারুফের চাচাতো ভাই মো. রজব আলি গাজী সাতজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
 
মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৬ সালের ৩অক্টোবর যশোরের অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত থেকে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। আদালত ১২ জনের মধ্যে ১১জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক।
 
ইত্তেফাক/জামান