বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মা-বাবা বৈশাখী আলপনা আঁকা নতুন গেঞ্জি ও গামছা কিনে না দেওয়ায় শিপন মাহমুদ (১০) নামে এক শিশু শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শিপন মাহমুদ ধুনট উপজেলার উলিপুর গ্রামের সোনা উল্লাহর ছেলে এবং উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিপনের বাবা একজন কৃষি মজুর। অভাব অনটনের সংসার। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের অবস্থা। পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই শিপনের সহপাঠী ও খেলার সাথীরা আলপনা আঁকা বিভিন্ন রঙের গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, শার্ট এবং গামছা কিনেছে। তাদের দেখে শিপনের মনে গেঞ্জি ও গামছা কেনার সখ হয়।
তাই দুই দিন আগে মা-বাবার কাছে বৈশাখী আলপনা আঁকা গেঞ্জি ও গামছা কিনে দেওয়ার বায়না ধরে। কিন্ত হতদরিদ্র মা-বাবার পক্ষে ছেলের বায়না পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার সকালের দিকে শিপনের মা-বাবা কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে যান। প্রতিবেশী সহপাঠী ও খেলার সাথীরা বৈশাখী আলপনা আঁকা গেজি ও গামছা পরে আনন্দে মেতে ওঠে।
এসব দৃশ্য দেখে অভিমানি শিপনের মনে ক্ষোভে-দুঃখ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মা-বাবার অজান্তে বাড়ির আঙ্গিনায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) রেকর্ড করা হয়েছে। স্কুলছাত্র শিপন মাহমুদের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/কাউছার
